
শেষ আপডেট: 13 May 2023 05:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও কোনও টিভি চ্যানেলের হিসাব বলছে কর্নাটকে (Karnataka Election) কংগ্রেস ১২৮ আসনে এগিয়ে আছে। কেউ দেখাচ্ছে ১২০, কারও হিসাব ১২৫। এক দুটি ১১০-এর কম আসনের কথাও বলছে। কিন্তু কী বলছে নির্বাচন কমিশনের হিসাব?
কমিশন যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ ঠিক মতো মিলিয়ে তবেই ফলের প্রবণতা প্রকাশ করে। ফলে টিভি চ্যানেল যখন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতিতে ফলের প্রবণতা প্রচার করছে, নির্বাচন কমিশন তখনও প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মতোই ধীর গতিতে জানাচ্ছে কোন আসনে কোন দল এগিয়ে।
সেই নির্বাচন কমিশনই একটু আগে ফলের যে প্রবণতা ঘোষণা করেছে তাতে কংগ্রেস (Congress) ১১৫টি আসনে এগিয়ে গেছে (went ahead in 115 seats)। অর্থাৎ সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১১৩-র থেকে দুটি বেশি।
শেষ পর্যন্ত কর্নাটকের ফল কী হবে বলা মুশকিল। আরও মুশকিল সরকার কে গড়বে সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া। কারণ, গতবারের থেকে কম বা বেশি, জেডিএস যতগুলি আসনই পাক না কেন, বিজেপি এবং কংগ্রেস ১১৩টি আসন না পেলে আঞ্চলিক ওই দলের কাছে হাত পাততে হবে তাদের। আর জেডিএস নেতা তথা দু বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী আগাম জানিয়ে রেখেছেন বোঝাপড়া হতে পারে শুধু তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মেনে নিলে।
কিন্তু কংগ্রেস মনে করছে, এবার সরকার তারাই গড়বে। খাস নির্বাচন কমিশন দলকে ১১৫ আসনে এগিয়ে থাকার প্রবণতা প্রকাশ করার পর সরকার গড়ার প্রশ্নে কংগ্রেস নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আর তা স্পষ্ট হয়েছে দলের তরফে সদ্য প্রকাশ করা একটি ছবি। এক ফ্রেমে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা সিদ্দারামাইয়া এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার (Congress tweeted picture of Siddaramaiah-Sivakumar)।
কংগ্রেস কেন গণনার মাঝপথে রাজ্যের দুই শীর্ষ নেতার হাসিমুখ ছবি প্রকাশ করল? আসলে এটা দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের মধ্যে রাজস্থানের অশোক গেহলট ও শচীন পাইলটের মতো বিবাদ হবে, এটা জানাই আছে। রাজ্য-রাজনীতিতে দু’জনের অবস্থান অনেকটা বাংলায় এক সময় প্রিয়-সুব্রত বনাম সোমেন অথবা মমতা-সোমেন সম্পর্কের মতো। দু’জনেরই সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থন আছে। তবে নির্বাচনে তাঁরা সব বিরোধ ভুলে ছিলেন। দুই নেতাই সব কেন্দ্রে পালা করে প্রচার করেছেন। প্রার্থী তালিকাতেও ভারসাম্য রক্ষা করে কংগ্রেস।
সরকার গড়ার সুযোগ শেষ পর্যন্ত এলে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে লড়াই যাতে দলের বিধায়ক এবং সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে রেখাপাত না করে সে জন্যই দু’জনের হাসিমুখ ছবি প্রচার করেছে পার্টি। মিডিয়া অবশ্য বিগত বেশ কিছুদিন যাবৎ শিবকুমারকেই এগিয়ে রাখছে। সরকার গড়ার সুযোগ এলে সম্ভবত কংগ্রেস হাইকমান্ডও তাঁর দিকেই কুর্সি এগিয়ে দেবে। কারণ, ২০১৯-এ বিজেপি কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙিয়ে সরকার গড়লেও শেষ পর্যন্ত ১৭জনের বেশি কাউকে পাশে না পাওয়ার পিছনে ছিল শিবকুমারের লড়াই। রাজ্যে কংগ্রেসকে উজ্জীবিত করতে তাঁর ধারাবাহিক আন্দোলনও সাড়া ফেলেছে।
পরিস্থিতি আঁচ করে সিদ্দারামাইয়া ভিন্ন তাস খেলে রেখেছেন। ভোট গ্রহণ শেষ হতেই ঘোষণা করেন, আর ভোটে দাঁড়াবেন না। পরোক্ষে বার্তা দিয়েছেন দল যেন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ারও শেষ সুযোগটি দেয়। এখন দেখার কংগ্রেস আদৌ সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১১৩ আসন পায় কিনা।
মোদীর মুখ রক্ষায় কর্নাটকেও এখনই নেমে পড়েছে বিজেপি, চর্চায় ‘বহিরাগত’