
শেষ আপডেট: 13 May 2023 07:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে (Karnataka Election) এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না হলেও গণনার প্রবণতায় বিজেপি অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস এগিয়ে ১১৫ আসনে। সেখানে বিজেপি (BJP) প্রার্থীরা এগিয়ে মাত্র ৭৩টিতে। জেপিএস এগিয়ে ২৯টি আসনে।
সরকার গড়ছেই ধরে নিয়ে কংগ্রেস ইতিমধ্যে রাজপথের দখল নিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি অফিসে বিষাদের ছায়া। মুষরে পড়েছেন কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু নেতারা বসে নেই। সর্বশেষ খবর, বেঙ্গালুরুর একটি হোটেলে বৈঠকে বসতে চলেছেন জেডিএস নেতা এইচডি কুমারস্বামী এবং পদ্মশিবিরের নেতারা (leaders at Kumaraswamy's door)। যদিও দুই শিবিরই বিষয়টি গোপন রেখেছে। অন্তত মুখে কেউই স্বীকার করছে না। কিন্তু মিডিয়ায় চাউর হয়ে যাওয়া খবর কোনও শিবিরই অস্বীকার করেনি।
কর্নাটকের ভোট কেন বিজেপি-কংগ্রেসের পাশাপাশি মোদীরও মানরক্ষার লড়াই
কুমারস্বামী আজ সকালে সিঙ্গাপুর থেকে বেঙ্গালুরু ফিরেছেন। ভোট গণনার আগের দিন তাঁর সিঙ্গাপুর উড়ে যাওয়া নিয়ে জোর জল্পনা ছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য, সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে গিয়ে বেজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কুমারস্বামী।
যদিও জেডএস সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রুটিন হেলথ চেকআপের জন্য শুক্রবারই ডেট দিয়েছিল সিঙ্গাপুরের হাসপাতাল। সিঙ্গাপুর উড়ে যাওয়ার আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী বলে যান, কংগ্রেস ও বিজেপি, কোনও দলের সঙ্গেই তিনি যোগাযোগ রাখছেন না। ওই দলগুলিও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ফল ঘোষণার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন কোন দলকে সাহায্য করবেন। সেই সঙ্গে শর্ত জুডে দেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে তবেই পাশে থাকবেন।

কর্নাটকে ফলের যে প্রবণতা তাতে বিজেপির সরকার টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে, গণনার প্রবণতার হেরফের না হলে একক শক্তিতে ক্ষমতায় আসছে কংগ্রেস।
এই পরিস্থিতি আঁচ করেই নতুন খেলা শুরু হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেসকে ঠেকাতে তারা ঘুর পথে ক্ষমতায় থেকে যেতে চায়। কুমারস্বামীর প্রস্তাব মেনে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করে দিয়ে কংগ্রেসকে ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব। আর এমন প্রস্তাবের জন্য মুখিয়ে আছেন জেডিএস নেতাও। দলের সুপ্রিমো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া ভোটের পরই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁর দল বিজেপির পাশে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়নও ভাল।
তবে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আসা থেকে আটকানো তখনই সম্ভব হবে যদি দেখা যায় তীরে এসে তরী ডোবার জোগার হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন দলটির। যদিও সেই সম্ভাবনা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তবে কাজে লাগানোই রাজনীতি। কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত ১১৩ আসন না পেলে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি। নিজে সরকার টেকাতে না পারলেও কংগ্রেসের যাত্রাভঙ্গ গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য এখন। কারণ, কর্নাটক হাতছাড়া হলে গোট দাক্ষ্যিণাত্য বিজেপি শূন্য হয়ে যাবে। এই একটি মাত্র রাজ্যেই ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল পদ্মশিবির।
কংগ্রেস অফিসের বাইরে উৎসব, ম্যাড়ম্যাড় করছে গেরুয়া শিবিরের দফতর