
শেষ আপডেট: 13 May 2023 08:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে (Karnataka Election) কংগ্রেসের সরকার গড়ার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। দলের সভাপতির চেয়ারে বসার পর কর্নাটক হল মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Mallikarjun Kharge) নেতৃত্বে কংগ্রেসের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জয়। গত বছর নভেম্বরে কংগ্রেস গুজরাতে হারলেও হিমাচলপ্রদেশে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করে। খাড়্গের নিজের রাজ্য কর্নাটকেও জয় হাসিল করল কংগ্রেস। যে নির্বাচনে খাড়্গেই ছিলেন দলের প্রচারের অন্যতম মুখ। সনিয়া গান্ধী মাত্র একটি সভা করেছেন। প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়লেও রাহুল ও প্রিয়ঙ্কারা অন্যদের ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি।
খাড়্গের সাফল্যের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে বিজেপি (BJP) সভাপতি জেপি নাড্ডার (JP Nadda) ব্যর্থতাও। হিমাচলপ্রদেশ তাঁর রাজ্য তাই শুধু নয়, ওই রাজ্যে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী বাছাই থেকে প্রচার সব কিছুতেই শেষ কথা ছিলেন বিজেপি সভাপতি। কর্নাটকেও একাধিক সভা, রোড শো করেছেন নাড্ডা। তাই শুধু নন, প্রার্থী তালিকাও চূড়ান্ত করেছেন তিনি। বাদ দিয়েছেন প্রাক্তন এক মুখ্যমন্ত্রী এবং দুই উপমুখ্যমন্ত্রীকে। ফলে কর্নাটকে যেমন মোদী ম্যাজিক কাজ করেনি, তেমনই ভরাডুবি হয়েছে নাড্ডার নেতৃত্বেরও।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের পুনর্জাগরণে রাহুল গান্ধীর সিদ্ধান্ত এবং সনিয়া গান্ধীর ভাবনা অনেকটাই মিলে গিয়েছে। শত অনুরোধেও রাহুল ফের সভাপতি হতে চাননি। অন্যদিকে, সনিয়াও নিজের অসুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে পদ ধরে না থেকে কুর্সি এগিয়ে দিয়েছিলেন আশি উত্তীর্ণ মল্লিকার্জুন খাড়্গের দিকে। যদিও সাংগঠনিক নির্বাচনের মধ্য দিয়েও দলীয় সভাপতি পদে বসেন এই প্রবীণ নেতা।
তারপরও বিজেপি তাঁদের কৌশল মতো কর্নাটকের ভোটের প্রচারেও বারে বারের খাড়্গেকে খাটো করার চেষ্টা করেছে। গেরুয়া শিবির বলেছে, মনমোহন সিংহ ছিলেন ‘রিমোট কন্ট্রোল প্রধানমন্ত্রী’, খাড়্গে হলেন ‘রিমোট কন্ট্রোল কংগ্রেস সভাপতি’। বলাই বাহুল রিমোট সনিয়া গান্ধী, রাহুল, প্রিয়াঙ্কাদের হাতে, বলেছে গেরুয়া শিবির।
কর্নাটকের ভোট কেন বিজেপি-কংগ্রেসের পাশাপাশি মোদীরও মানরক্ষার লড়াই
বিজেপির প্রচার গায়ে না মেখে খাড়্গে নিজের রাজ্যে পড়ে আছেন গত দিন কুড়ি। কর্মী-সমর্থকদের চাঙা করতে ভোটের দু’দিন আগে বলেছেন, ‘কংগ্রেস ক্ষমতায় আসছে কর্নাটকে। তবু যদি কোনও অঘটন ঘটে যায়, তার দায় কাউকে নিতে হবে না। দায় আমার। আমি নিজে এই নির্বাচনের প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত।’ কংগ্রেস মনে করছে, খাড়্গের ওই নেতা সুলভ মন্তব্য মহৌষদের মতো কাজ করে কর্মীদের মধ্যে।
খাড়্গে কংগ্রেস সভাপতির চেয়ারে বসেন গত বছর অক্টোবর। ২২ বছর পর কংগ্রেস সভাপতি হন গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও নেতা। দলেই সংশয় ছিল গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে গোটা পার্টি নেতা মানবে কিনা। তিক্ত অভিজ্ঞতাই হয় নরসিংহ রাও, সীতারাম কেশরীরা সভাপতি থাকাকালে। কিন্তু সব সংশয় মিথ্যা প্রমাণ করেছেন প্রবীণ খাড়্গে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসেই ছিল গুজরাত ও হিমাচলপ্রদেশের ভোট। হিমাচলে জয় হাসিল করে দল। পরে উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্য ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং নাগাল্যান্ডে দল মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু কর্নাটকের মতো বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে সামনের সারিতে থেকে দলকে ক্ষমতায় দুয়ারে নিয়ে আসা খাড়্গের সাফল্যের মুকুটে নয়া পালক জুড়ল কোনও সন্দেহ নেই। অন্যদিকে, লোকসভা ভোটের আগে দলে বড় ধাক্কা খেলেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা।