দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত দুই সপ্তাহে রেজিগনেশন লেটার পাঠিয়েছেন কর্ণাটকের শাসক জোটের ১৬ জন বিধায়ক। কংরেস-জেডি এস সরকারের সমর্থক দুই নির্দল বিধায়কও জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা বিজেপির পক্ষে। স্পিকার কে রমেশ কুমার একজনেরও ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি। বিদ্রোহীরা সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ করেছিলেন, স্পিকার শাসক জোটের সুবিধা করে দিচ্ছেন। কিন্তু বুধবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিল, বিদ্রোহী বিধায়কদের পদত্যাগপত্র নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন একমাত্র স্পিকারই।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে, স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়ে কোর্টের কিছু বলার নেই। আদালত কোনও সিদ্ধান্ত তাঁর ওপরে চাপিয়ে দিতে পারে না।
বিদ্রোহী বিধায়করা শীর্ষ আদালতে বলেছিলেন, স্পিকার তাঁদের পদত্যাগ গ্রহণ করতে দেরি করছেন। এদিকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। তাহলে তাঁরা কি অধিবেশনে অংশ নিতে বাধ্য হবেন? সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য বলেছে, বিদ্রোহীদের অধিবেশনে অংশ নিতে বাধ্য করা যাবে না। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় আস্থাভোট হবে। তাতেও বিদ্রোহীদের অংশ নিতে বাধ্য করা যাবে না।
স্পিকার যদি ইস্তফা গ্রহণ করেন, তাহলে শাসক জোটের বিধায়কের সংখ্যা ১১৮ থেকে নেমে আসবে ১০০-তে। বিধানসভায় তখন গরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন হবে ১০৫ টি আসন। বিজেপির ঠিক ১০৫ টি আসনই আছে। তার ওপরে দুই নির্দল বিধায়ক তাদের সমর্থন করবেন বলেছেন।
স্পিকার সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন, বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়কের পদ বাতিল হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁদের পুনরায় নির্বাচিত হয়ে বিধানসভায় আসতে হবে। তার আগে মন্ত্রী হতে পারবেন না। কিন্তু তাঁরা যদি ইস্তফা দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সহজেই মন্ত্রী হতে পারবেন। ছ’মাসের মধ্যে কোনও কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে এলেই চলবে।
কুমারস্বামী স্পিকারের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, সরকার ফেলে দেওয়ার জন্যই কয়েকজন বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের পদত্যাগপত্রগুলি ভালোমতো খতিয়ে দেখা দরকার।
বিদ্রোহী বিধায়করা এখন আছেন মুম্বইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে। সেকথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র রাজীব ধবন বলেন, যে বিধায়করা মুম্বই গিয়েছেন, তাঁরা সকলেই মন্ত্রী হতে চান। বিদ্রোহীরা পালটা বলেন, কেউ আমাদের ইস্তফা দিতে বাধ্য করেনি। এই সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে।