
শেষ আপডেট: 13 May 2023 03:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিংহভাগ সংস্থাই বুথফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত দিয়েছিল, কর্নাটকে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হতে পারে। সেসব মাথায় রেখেই ফল ঘোষণা শুরুর কিছুটা আগেই বেঙ্গালুরুর অদূরে সাত তারা রিসর্ট বুক করে ফেলল কংগ্রেস (Karnataka Congress sending MLAs to resort)। জয়ী বিধায়কদের সেখানে নিয়ে গিয়ে রাখবেন ডিকে শিবকুমার, সিদ্দারামাইয়ারা।
কারণ একটাই, ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হলে যাতে কংগ্রেসি বিধায়কদের বিজেপি ভাঙিয়ে না নিতে পারে। গত সাত-আট বছরে দেশের রাজনীতিতে রিসর্ট রাজনীতি নতুন নয়। এর আগে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে এই ছবি দেখা গিয়েছিল। কর্নাটকের ভাঙা-গড়ার সময়েও রিসর্ট রাজনীতি চর্চায় এসেছিল। এবার ফল ঘোষণার আগেই সেই বন্দোবস্ত করে ফেলল কংগ্রেস।
শনিবার কাকভোরে সিদ্দারামাইয়ার বাড়ি থেকে বৈঠক করে বের হন কর্নাটকের কংগ্রেস সভাপতি শিবকুমার। সংবাদসংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘আমরা সমস্ত বন্দোবস্ত রাখছি। অবস্থা অনুযায়ী পদক্ষেপ করব।’
সকাল আটটা থেকে ২২৪ আসনের কর্নাটকের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তখন ঘড়িতে বাজে আটটা ২৫। অতি প্রাথমিক রাউন্ডের গণনা চলছে। তাতে দেখা যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। এই সময়ে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৬৯টি আসনে। বিজেপি এগিয়ে ৬৮টি আসনে। জেডিএস ১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দু’টি আসনে এগিয়ে রয়েছে অন্যান্যরা।
২০১৮ সালের ভোটের পর কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছিল জেডিএস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এইচডি কুমারস্বামী। কিন্তু তারপর অপারেশন লোটাসে সেই সরকার পড়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। যদিও গেরুয়া শিবিরও খুব স্বস্তির মধ্যে দিয়ে যায়নি। প্রথমে ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসালেও পড়ে তাঁকে সরিয়ে দেয় দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ। মুখ্যমন্ত্রী করা হয় বাসবরাজ বোম্মাইকে।
অন্যদিকে এবার কংগ্রেসও আগ্রাসী হয়ে ঝাঁপিয়েছিল কর্নাটকে। নতুন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের নিজের রাজ্যও বটে। ফলে কর্নাটকের ফলাফল খাড়্গের প্রেস্টিজ ফাইট বলেও মনে করছেন অনেকে।
এবারের কর্নাটকের ভোটে নরেন্দ্র মোদী অন্তত ১৭টি জনসভা করেছেন। কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনিই মুখ। রাজ্যের নেতাদের প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ টের পেয়েই হয়তো এই পন্থা নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এখন দেখার কার হাতে যায় কর্নাটক।