
শেষ আপডেট: 10 June 2023 04:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল-কলেজের সিলেবাস (School syllabus) ঘিরে রাজনীতি নতুন না হলেও হালে তা অন্যমাত্রা নিয়েছে। কেন্দ্র এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি দীর্ঘদিনের চালু সিলেবাস থেকে মুঘল শাসন, প্রগতিশীল, কংগ্রেস দরদী মনীষী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিকের জীবনী, রচনা, কবিতা ইত্যাদি বাদ দিচ্ছে। পাল্টা প্রতিরোধ শুরু হয়েছে কর্নাটকে (Karnataka Congress BJP clash)।
সে রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় আসা কংগ্রেস সরকার দায়িত্ব নিয়েই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে দুটি সিদ্ধান্ত করেছে। ১. নির্বাচনের আগে ঘোষিত সমস্ত পরিষেবামূলক প্রতিশ্রুতি দ্রুত চালু করা। সেই মতো সরকারি নির্দেশও বেরিয়ে গিয়েছে। ২. রাজ্যের সিলেবাসের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে কমিটি গঠন।
সেই কাজও দ্রুত শুরু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া রাজ্যের শিক্ষা জগতের ৪০জন বিশিষ্টজনকে ডেকে সম্প্রতি কথা বলেছেন। তাঁদের ৫ জুনের মধ্যে পরামর্শ সরকারের কাছে লিখিতভাবে জমা করতে বলা হয়েছিল। সেগুলি খতিয়ে দেখে রাজ্য সরকার সিলেবাস কমিটির কার্যসূচি তৈরি করবে।
সরকারি সূত্রের খবর, সেই সুপারিশের ভিত্তিতে কর্নাটক সরকার সিলেবাস কমিটির জন্য তৈরি খসড়া কার্যসূচিতে বলেছে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের জীবনী শিক্ষার সব সিলেবাস থেকে বাদ দিতে হবে। এছাড়া বিজেপি সরকার যতভাবে সিলেবাসকে হিন্দুত্বমুখী করেছে তাও শোধরানো হবে। ফেরানো হবে বাদ যাওয়া অংশ।
এই খবর জানাজানি হতেই সরব হয়েছে বিজেপি। দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সিটি রবির বক্তব্য, কংগ্রেস আসলে অজ্ঞদের পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তা না হলে তারা হেডগেওয়ারের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নিশানা করত না। তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যের হল কংগ্রেস সরকার বিদেশি কমিউনিস্ট নেতা কার্ল মার্কস, মাও জে দংয়ের মতো মানুষের জীবনী পড়াতে আগ্রহী যাঁরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন না।
অন্যদিকে, কর্নাটকের বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা বিকে হরিপ্রসাদের দাবি, হেডগেওয়ার মোটেই নিষ্ঠাবান স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না। তিনি ছিলেন ছদ্ম সংগ্রামী। উল্লেখ, বাম ও কংগ্রেস শিবির গোটা সঙ্ঘ পরিবারকেই ব্রিটিশের বন্ধু বলে অভিযোগ করে থাকে। আর দু’ বছরের মাথায় আরএসএসের শতবর্ষ। তার আগে কর্নাটক সরকারের সিদ্ধান্তে সঙ্ঘ পরিবারও বিচলিত। তবে এখনও আরএসএস প্রকাশ্যে এই ব্যাপারে মুখ খোলেনি।
বিজেপি সূত্রের খবর, তারা নয়া সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নামতে কালক্ষেপ করবে না। প্রথমে ঠিক হয়েছিল সৌজন্য বজায় রেখে অন্তত মাস ছয় সরকার বিরোধী কর্মসূচি নেওয়া হবে না। কিন্তু কংগ্রেস সরকার সেই সুযোগ দিচ্ছে না।
সিদ্দারামাইয়া সরকার আসলে ‘অপারেশন ক্লিন’ চালু করেছে। অর্থাৎ আগের সরকারের বহু নীতি, আইন, বিধি তারা বাতিল অথবা সংশোধন করবে, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরার অধিকার তারা ফিরিয়ে দেবে। সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হলেই সরকার পদক্ষেপ করবে। সংশোধন করা হবে ধর্মান্তকরণ এবং গরুর মাংস বিক্রি সংক্রান্ত আইনে।
সম্প্রতি নতুন এক মন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, স্লটার আইনে মহিষ হত্যার অনুমতি থাকতে পারলে গরুতে আপত্তি কেন? মন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে তুমুল শোরগোল শুরু হয়। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সরকার বিভাজন উসকে দিচ্ছে। হিন্দুদের মনে আঘাত করছে। গরুকে হিন্দুরা মাতৃজ্ঞানে পুজো করে থাকে।
মন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে অবশ্য কংগ্রেস অনুমোদন করেনি। দল জানিয়ে দেয়, গো-হত্যার বিষয়ে মন্তব্য ব্যক্তিগত অভিমত, দলের নয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়ে দেন, কাউ স্লটার আইনেও বদল আনা হবে। গো-হত্যা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করায় বহু সাধারণ গো-পালক সমস্যায় পড়েছেন। কারণ, অসুস্থ, বয়স্ক গরু প্রতিপালন করার বিপুল খরচ বহন করতে হচ্ছে।
কেন্দ্রের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখরের বক্তব্য, কংগ্রেসের সমস্যা হল তারা নেহরু-গান্ধী পরিবার ও তাদের অনুগামীদের বাইরে ইতিহাসকে ভাবতেই পারে না। মন্ত্রীর আরও বক্তব্য, কংগ্রেস বিপুল মানুষের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের ধীরে পদক্ষেপ করা উচিত। সকলের ভাবনা যেন সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী বিজেপি নেতা বিসি নাগেশ। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস সরকার শিক্ষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে চাইছে রাজ্যের সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরাতে। আসলে যে বিপুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছে তা পূরণ করার মতো অর্থ সরকারের হাতে নেই।
গডসে বন্দনায় গিরিরাজ: নাথুরাম ভারতের সন্তান, ঔরঙ্গজেবের মতো নন