
শেষ আপডেট: 18 May 2023 04:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, বৃহস্পতিবার রাতে তা জানা যাবে (Karnataka CM swearing in ceremony updates)। সন্ধ্যা ৭টায় বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেস বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। জল্পনায় নাম রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সি সিদ্দারামাইয়ার (Siddaramaiah)। আবার বিধায়কদের কাছে বৈঠকের চিঠি গিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারের নামেই, যিনি মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার। ২০ মে শনিবার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কর্নাটকের পুলিশ-প্রশাসন।
কিন্তু কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? কংগ্রেস সূত্রে এই প্রশ্নের জবাব মেলেনি। তবে দলের শীর্ষমহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, বুধবার গভীর রাতে সমঝোতা সূত্র বেরিয়েছে। বিবদমান দুই গোষ্ঠী অর্থাৎ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সি সিদ্দারামাইয়া এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার সমঝোতা সূত্র মেনে নিয়েছেন। দুই নেতা যথাক্রমে সিদ্দা এবং শিব ডাক নামে বেশি পরিচিত।

তাঁদের মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে তা কংগ্রেস সূত্র থেকে জানা যায়নি। শিবকুমার বেশি রাতে দিল্লিতে তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি এখানে ঘুমোতে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ে হাইকমান্ডের পছন্দই আমার পছন্দ।’
জল্পনা আছে, দুই নেতা শেষ পর্যন্ত বোঝাপড়ায় আসতে রাজি না হলে তৃতীয় কাউকে বাছা হবে। সেক্ষেত্রে প্রবীণ নেতা জি পরমেশ্বরের নাম আলোচনায় এগিয়ে। ২০০৮ থেকে টানা জিতে আসা প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী পরমেশ্বর রেকর্ড সময় কর্নাটক কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। শিক্ষকতা দিয়ে পেশা শুরু করা এই নেতা গান্ধী পরিবারেরও ঘনিষ্ঠ। কারণ, ১৯৮৯-এ রাজীব গান্ধী তাঁকে রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দিলে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকতা ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন।
কংগ্রেস একটি সূত্রের খবর, বুধবার রাত পর্যন্ত জানা যায়, শিবকুমারকে কিছুতেই মানানো যায়নি। সব ফরমুলাতেই তিনি পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে নেতৃত্বকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার পরও বরফ গলেনি।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সরাসরি দিল্লি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা না করার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। বেঙ্গালুরুতে বিধায়কদের বৈঠকেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে। তবে তার আগে শিবকুমারকে রাজি করানো গেলে তবেই খাড়্গে দিল্লি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবেন।
কর্নাটক নিয়ে কংগ্রেস আসলে মহা বিপাকেই পড়েছে। পরিস্থিতির সঙ্গে সবচেয়ে মিল আছে রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ের। তবে ফারাকও আছে। রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বাছাই ঘিরে বিরোধ শুধু ওই দুই রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কর্নাটকের ক্ষেত্রে বিধায়কেরা সিংহভাগ সিদ্দারামাইয়াকে চাইলেও কংগ্রেসে সর্বভারতীয় এবং অন্য রাজ্যের নেতারা কিন্তু মনে করেন আসন্ন চার রাজ্যের বিধানসভা ভোট এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে শিবকুমারকেই কর্নাটকের কুর্সিতে বসানো দরকার। তিনি শুধু নিজের রাজ্যেই দলকে ঐক্যবন্ধ রাখেননি, অন্য রাজ্যেও পার্টির বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেমন গত বছর রাজস্থানে রাজ্যসভার ভোটে বিজেপির অপারেশন লোটাস ব্যর্থ করে দেন শিবকুমারই। তিনিই কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি রিসর্টে নিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন। কেরল কংগ্রেসেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। ফলে লোকসভা ভোটের প্রচারে হিন্দি জানা এই নেতাকে দল সারা দেশেই ব্যবহার করতে পারবে।
অন্যদিকে, সিদ্দারামাইয়া শুধু জনপ্রিয় নেতাই নন, তিনি ওবিসি সমাজের মুখ। বিজেপির উদীয়মান মণ্ডল রাজনীতির তাস উল্টে দিতে হলে তাঁকে সামনের সারিতে দরকার। ফলে কংগ্রেসের ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ দশা। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরুতে বিধায়কদের বৈঠক ডেকে দেওয়ায় মনে করা হচ্ছে একটা কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়েছে।
বুধবার শিবকুমারকে বলা হয়, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তিনি যেমন আছেন থাকবেন। সেই সঙ্গে সিদ্দারামাইয়ার মন্ত্রিসভায় উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়াও তাঁর হাতে গোটা ছয়েক দফতর দেওয়া হতে পারে। এই প্রস্তাবে তিনি শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হয়েছেন কিনা এখনও স্পষ্ট নয়। বেঙ্গালুরুর বৈঠক আজ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিস্ফোরণ ঘটে সেটাই এখন দেখার।
মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ে বিরোধ, ম্লান কর্নাটকে কংগ্রেসের বিপুল জয়