
শেষ আপডেট: 17 May 2023 06:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী (Karnataka CM) কাকে করা হবে ফল প্রকাশের চারদিন পরেও কংগ্রেস সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। বুধবার সিদ্ধান্ত পাকা করতেই হবে। কিন্তু মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত খবর, সিদ্ধান্ত নিতে না পারার পিছনে একাধিক কারণের একটি হল গান্ধী পরিবারের মধ্যে মতভেদ। সনিয়া গান্ধীর সমর্থন দলের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসাবে পরিচিত ডিকে শিবকুমারের দিকে। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী চান সি সিদ্ধারামাইয়াকে (siddaramaiah DK Shivakumar)। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সরাসরি কোনও পক্ষ না নিলেও তিনিও দাদার দিকেই ঝুঁকে।
মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কংগ্রেস নেতৃত্ব দফায় দফায় বৈঠক করেছে কর্নাটক নিয়ে। দুপুরে রাহুল গান্ধী নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে পৌঁছান দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড্গের বাংলোয়। দু’জনের প্রায় দেড় ঘণ্টা কথা হয়। সন্ধ্যায় রাহুল এবং কর্নাটকের দুই মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যাশী সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমার আলাদা আলাদ দেখা করেন সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। সনিয়া বিকাল পর্যন্ত দিল্লিতে ছিলেন না। তিনি সিমলায় ছুটি কাটাচ্ছিলেন। সনিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হয় খাড্গের।
মঙ্গলবার দুপুরের পর কংগ্রেস মহলে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল শিবকুমার বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি রওয়া হওয়ার পর। বেঙ্গালুরুতে তিনি জানিয়ে যান, দল যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করবে তাঁকেই মেনে নেবেন তিনি। বিরোধিতা বা ব্ল্যাকমেলিংয়ের ইচ্ছা তাঁর নেই। কংগ্রেস সরকার পাঁচ বছর নির্বিঘ্নে ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেননি শিবকুমার। মুখভার করে চলে যান। শিবকুমার বেঙ্গালুরু ছাড়ার পর সব মহলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল সিদ্ধারামাইয়ার নাম ঘোষণা সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে না পারার একাধিক কারণের অন্যতম হল সনিয়া ও রাহুলের মতভেদ। যা অতীতে কোনও ঘটনায় দেখা যায়নি। রাহুল চান মুখ্যমন্ত্রী করা হোক প্রবীণ সিদ্দারামাইয়াকে। বিধায়কদের সিংহভাগের সমর্থনও তাঁর দিকে। পরিছন্ন ভাবমূর্তির জননেতা হিসাবে কর্নাটকের রাজনীতিতে সুপরিচিত সিদ্দারামাইয়া। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালের সমর্থন সিদ্দারামাইয়ার দিকে। অন্যদিকে, ওই রাজ্যে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি-র জেনারেল সেক্রেটারি রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা পরিস্থিতির জটিলতা আঁচ করে মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ে মুখ খুলছেন না।
অন্যদিকে, সনিয়া চান মুখ্যমন্ত্রী করা হোক সাম্প্রতিক সময়ে বহু লড়াইয়ের নায়ক শিবকুমারকে। তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করে দিল্লির তিহার জেলে পুরেছিল। সনিয়া সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কর্নাটকের ফল ঘোষণার দিন সনিয়ার জেলে গিয়ে দেখা করার দিনটি স্মরণ করেই কেঁদে ফেলেছিলেন শিবকুমার। দুর্নীতির মামলায় তাঁকে বারে বারে বিজেপিতে যোগ দিতে বলা হলেও তিনি দল ছাড়েননি। সনিয়া তাই কর্নাটকের এই ধনী ব্যবসায়ী নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করে বাকিদের বার্তা দিতে চান বিপদে দলের পাশে থাকলে দলও প্রতিদান দেবে।

রাহুলের আপত্তির কারণ, শিবকুমারের বিরুদ্ধে সিবিআই, ইডি, আয়কর মিলিয়ে ১৯টি মামলা ঝুলছে। এরমধ্যে ১০টিকে কংগ্রেস দলকেও টেনেছে তদন্তকারীরা। রাহুলের মত দুটি। এক. কংগ্রেস কর্নাটকে বিজেপি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতেছে। শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে দলের বাইরের যে লোকেদের সমর্থন কংগ্রেস পেয়েছে তা লোকসভা ভোটে মিলবে না। দুই. শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হলে বিজেপির আরও সুবিধা হয়ে যাবে। দুর্নীতির মামলায় মুখ্যমন্ত্রীকে ঘন ঘন তলব করে হেনস্থা করবে। হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করবে। সেই অভিঘাত গিয়ে পড়বে দল ও সরকারের উপর। তাছাড়া, অধিকাংশ বিধায়ক যখন সিদ্দারামাইয়াকে চাইছেন তখন তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হোক, মত প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির।
কোন দিকে খাড়্গে? জানা যাচ্ছে, নিজের তাসটি গোপন রাখলেও মনের কথা পুরোপুরি আড়াল থাকছে না। সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে তাঁর পুরনো বিরোধ আছে। ২০১৩-র ভোটে সিদ্দারামাইয়ার কাছেই মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। প্রকাশ্যে না বললেও তিনিও শিবের দিকেই। তবে তাঁর প্রধান সমস্যা সনিয়া-রাহুলের মত বিরোধ। কংগ্রেসের মা ও ছেলের মতবিরোধের এমন নজির কমই আছে।
কর্নাটকের নবনির্বাচিত বিধায়কেরা রীতি মেনে গত রবিবার বিকালেই মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের দায়িত্ব সভাপতি খাড়্গের হাতে তুলে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের নেতা সুশীল কুমার শিন্ডে প্রত্যেক বিধায়কের সঙ্গে একান্তে কথা বলে খাড়্গেকে রিপোট দিয়েছেন। দিয়েছেন গোপন ব্যালটের ফলাফল। অনেকেই মনে করছেন, বিধায়করা সিদ্দার দিকে হলেও শিবকুমারের জেদ ধরে থাকার পিছনে খাড়্গের প্রশ্রয় আছে।
এই পরিস্থিতিতে পরমেশ্বর পাতিলের মতো তৃতীয় কেউ কিংবা সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের মধ্যে আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
ইডিকে তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের: আপনারা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করবেন না