দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে ১৫ আসনের উপনির্বাচনে ১২টি আসনে এগিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস দু’টিতে। জনতা দল সেকুলার (জেডিএস) একটি আসনেও এগিয়ে নেই। উপনির্বাচনে অন্তত সাতটি আসনে জিততে পারলে তবেই একক ভাবে সরকার ধরে রাখা সম্ভব হত বিজেপির। এই অবস্থায় তারা বিপুল ভাবে জয়ী হতে চলায়, উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিজেপি শিবিরে।
বুথফেরত সমীক্ষায় যা দেখা গিয়েছিল, সেই ইঙ্গিত মিলেছিল, সেই গতিপ্রকৃতিই দেখা যাচ্ছে উপ-নির্বাচনের ফলাফলে।
ফলাফলের গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হতেই বিরোধী কংগ্রেস বলছে, এই জয় বিজেপির নয়, এই জয় ওই সব কেন্দ্রের প্রার্থীদের ব্যক্তি ক্যারিশ্মা ও বিজেপির অর্থবলের। তবে এর পরেও বিজেপি বলছে, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পরেও তাদের সরকার গড়তে দেয়নি কংগ্রেস-জেডিএস জোট। তারই জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। তাঁরা কংগ্রেস-জেডিএসকে ভোট দেননি।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের পরে বিজেপি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও, কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ে জেডিএস। মুখ্যমন্ত্রী হন এইচডি কুমারস্বামী। তাঁর শপথে বিরোধী ঐক্যের ছবি দেখা যায় কর্নাটকে। যদিও কুমারস্বামীর শপথের আগে সেখানেও তড়িঘড়ি সরকার গড়ে ফেলেছিল বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী হন ইয়েদুরাপ্পা।
কর্নাটকে জেডিএস বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়ে এইচডি কুমারস্বামীর নেতৃত্বাধীন সরকার ফেলে দেয় বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপির বিএস ইয়েদুরাপ্পা। তবে দলত্যাগ বিরোধী আইন লঙ্ঘিত হওয়ায় ওই ১৫ জন বিধায়ককে বরখাস্ত করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। তাতেও বিধানসভায় আস্থা ভোটে জিতে যান ইয়েদুরাপ্পা। আদালতের রায়ে বরখাস্ত হওয়া বিধায়করা উপনির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিধায়করা অনেকেই একার শক্তিতে জেতার ক্ষমতা রাখেন,সে জন্যই তাঁরা দল ছাড়তে পেরেছেন বলে মনে করছিল রাজনৈতিক মহল। তাঁদের সেই ধারনাই সত্যি হতে চলেছে।
বেলাগাবি জেলার গোকক কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত বিধায়ক রমেশ জারখিওলি। তিনি দাবি করছেন, কংগ্রসের অন্তত ৩৫ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। চাইলে তিনি নিমেষেই বিধানসভা থেকে কংগ্রেসকে খালি করে দিতে পারেন। বেশ কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ককে বিজেপিতে টেনে এনে তিনিই কংগ্রেস-জেডিএস সরকার ফেলে দিয়েছিলেন, তাই তাঁর কথাকে হাল্কা ভাবে নিতে পারছে না কংগ্রেস। তিনি এখন বিজেপিতে, কিন্তু পুরনো দল থেকে আরও কাউকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো যায় কিনা, এখনও সেটি তিনি দেখে চলেছেন বলেই গুঞ্জন। তাতে কংগ্রেসের আরও চাপ বাড়ছে।
অনেকেই এখন ‘সুযোগ-সুবিধা’ পেতে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন। এটাই সিদ্দারামাইয়ার দুশ্চিন্তার কারণ।