
শেষ আপডেট: 17 May 2023 10:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের ভরাডুবির দায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আড়াল করতে গত শনিবার ফল ঘোষণার দিন থেকেই তৎপরতা শুরু করে দিয়েছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (Karnataka BJP president may be removed from the post)। দলের মুখপাত্ররা টেলিভিশন চ্যানেলের বক্তব্যে বারে বারে দাবি করতে থাকেন, মোদীজি, অমিতজি না থাকলে ফল আরও খারাপ হতে পারত।
সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার লজ্জাজনক হারের দায় চাপানোর কাজ শুরু করতে চলেছে দল। সংসদীয় রীতি মেনে যদিও মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই ফল ঘোষণার দিনই পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন। বলেছেন, ‘সব দায় আমার। আমি মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা ভোটে মানুষ রাজ্য সরকারের কাজের নিরিখে ভোট দেয়। আমরা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।’
তবে এটা কথার কথা। মোদী-শাহের জমানায় বিজেপিতে পুরস্কার-তিরস্কার নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। ভোটের পরই পরাজয়ের দায় সাংগঠনিকভাবে এক বা একাধিক নেতার উপর চাপানো হয়। যদিও সেটা আসলে মোদী ও শাহকে রক্ষার কৌশল বলে দলের অনেকেই মনে করেন। তবে মোদী-শাহ জুটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, এখনও তাঁদের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে কেউ মুখ খোলেনি।
২০২১-এ বাংলার ভোটের প্রচারে তাঁরা রাজ্যবাসী এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন দু’ শো আসন নিয়ে দল ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু ৭৭ আসনে ঠেকে গিয়েছিল বিজেপি। কর্নাটকে আবার দলের শুধু ক্ষমতা হাতছাড়া হয়েছে তাই-ই নয়, আসন প্রাপ্তিতে সেঞ্চুরিও করতে পারেনি পদ্ম-শিবির। থমকে গিয়েছে ৬৬-তে।
বাংলায় পরাজয়ের দায় চাপিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। কর্নাটকেও সরানো হচ্ছে ওই পদে থাকা নলীন কুমার কাতিলকে। দিলীপের মতো তিনিও লোকসভার সদস্য। কর্নাটকের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী ইঙ্গিত দিয়েছেন কাতিলের জায়গায় কর্নাটক অচিরেই নতুন সভাপতি পেতে চলেছে।
বাংলার ভোটে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে দায়িত্বে ছিলেন দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। ২০২১-এর ২ মে ফল ঘোষণার পর থেকে চুপ মেরে গিয়েছিলেন কৈলাশ। একই আচরণ করছেন কর্নাটকের দায়িত্বে থাকা সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। তিনি ভোটের আগে রোজ গণ্ডায় গণ্ডায় টুইট করতেন। গত শনিবারের পর থেকে সব বন্ধ। শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদী কংগ্রেসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যে টুইট করেন, সন্তোষ সেটি রি-টুইট করেন সেদিন।
বিজেপি সূত্রের খবর, ডানা ছাঁটা হতে পারে সন্তোষেরও। আরএসএসের ঘরের লোক এই দক্ষিণী মোদী, শাহেরও কাছের মানুষ। কিন্তু কর্নাটকে তাঁর অতিসক্রিয়তাকে অনেকেই পরাজয়ের একটি কারণ বলে মনে করছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে জাতের অঙ্কে ভুলের পিছনে তাঁর ভূমিকাই মুখ্য বলে দলে বলাবলি হচ্ছে। এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক প্রবীণ নেতার দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের জন্যও তাঁর অনড় মনোভাবকেই দায়ী করছে রাজ্য বিজেপির অনেকেই।
জানা যাচ্ছে ঘনিষ্ঠ সন্তোষের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। মোদীর প্রচার কর্মসূচি ঠিক করার দায়িত্ব ছিল সন্তোষের উপর। একটি সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দিন বেঙ্গালুরুতে তাঁর রোড শো’র কর্মসূচি রাখা হয়েছে জেনে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। শেষ মুহূর্তে তা বদলানোর উপায় না থাকায় প্রধানমন্ত্রী রোড শো’ ছোট করে নিয়ে দু’দিন ধরে করতে বাধ্য হন। কিন্তু তাতেও সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কম নিন্দামন্দ শুনতে হয়নি। ফলে বিজেপির প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদকও নিরাপদ নন।
নীতীশের দলের নেতার মাংস-ভাতের পিকনিকে হুলস্থুল, বিজেপির দাবি, ১০০ কুকুর উধাও