দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আমি ভাল আছি।’ সময়মতো বাড়িতে চিঠি লিখেছিলেন কুলদীপ সিং। যুদ্ধবিধ্বস্ত কার্গিল সীমান্তে লাগাতার ডিউটি চলার সময়, খুব তাড়াহুড়োতেই লিখেছিলেন চিঠি। কিন্তু পাঞ্জাবের বাড়িতে সে চিঠি যখন এসে পৌঁছয়, তার তিন দিন আগেই স্বয়ং পৌঁছন কুলদীপ। তেরঙ্গা-মোড়া কফিনে চড়ে।
২৬ জুলাই কার্গিল দিবস উপলক্ষে কার্গিল যুদ্ধের শহিদ সেই কুলদীপের চিঠির কথা জানিয়েছেন কুলদীপের স্ত্রী, মনদীপ কৌর। ২০০০ সালের ১৩ জুলাই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারান কুলদীপ। ১৮ বছরের পুরনো ক্ষত এখনও ম্লান হয়নি একটুও। বরং স্মৃতিরা সর্বদা মনে করিয়ে দেয়, দু’দেশের যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে ঘরের মানুষটাকে।
১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তরুণ কুলদীপ। ২০০০ সালের জুলাইয়ে কার্গিল যুদ্ধের অন্যতম জওয়ান ছিলেন তিনি। তখন সবেমাত্র শেষ হয়েছে যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষের সুযোগে অনুপ্রবেশকারী শত্রুদের নিকেশ করতে ‘অপারেশন রক্ষক’–এর অংশ হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন কুলদীপ। সেই অপারেশন চলাকালীনই মারা যান তিনি।
১৬ জুলাই তাঁর মৃতদেহ বাড়িতে আসে। শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরে, ১৯ জুলাই কুলদীপের শেষ চিঠিটা বাড়িতে আসে শোককে আরও জোরালো করতে। এত বছর কেটে গেলেও সে চিঠিটি সযত্ন রেখে দিয়েছেন মনদীপ। স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্রের সঙ্গেই রয়েছে সেটিও। দু’টোই যে সমান দামি! মনদীপের কথায়, “চিঠিটা যখন এসেছিল, মনে হয়েছিল আবারও যেন কুলদীপ ফিরে এসেছে ঘরে।”
চিঠিতে কী লিখেছিলেন কুলদীপ? আগের চিঠির জবাব না দিতে পারার জন্য চিঠির গোড়াতেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তার পরে লিখেছিলেন, তিনি খুব ভাল আছেন। স্ত্রী এবং দুই ছেলে রবি–বীরের খোঁজ নিয়েছিলেন। বারণ করেছিলেন তাঁকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতে। লিখেছিলেন, বাড়িতে দু’হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। এ-ও বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবেন তিনি।
ফিরেছিলেন, একটু বেশিই তাড়াতাড়ি। চিঠির চেয়েও দ্রুত। কিন্তু সে ফেরায় কান্না ছাড়া আর কিছুই ছিল না।