
শেষ আপডেট: 15 March 2022 05:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির রবিবারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibal)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi), রাহুল গান্ধীরা (Rahul Gandhi) এবার কংগ্রেসের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ান। নতুনদের দায়িত্ব দিন। আর সেটা হলেই কংগ্রেস আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাঁর কথায়, একের পর এক নির্বাচনে ব্যর্থ নেতা শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকলে দল ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। কংগ্রেস নেতৃত্ব কল্পলোকে বাস করছে বলেও মন্তব্য করেছেন এই আইনজীবী নেতা (Kapil Sibal)।
রবিবারই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সর্বসম্মতভাবে সনিয়া গান্ধীকেই কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যেতে অনুরোধ করেছে। সেই বৈঠকেই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট রাহুল গান্ধীকে ফের কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন। ফলে পাঁচ রাজ্যে ভোটে বিপর্যয়ের পরও ওয়ার্কিং কমিটি কংগ্রেসের শীর্ষ পদের জন্য গান্ধী পরিবারের উপরই আস্থা ব্যক্ত করেছে।
কিন্তু একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কপিল সিব্বলের (Kapil Sibal) বক্তব্য, কংগ্রেসের মতো একটি সর্বভারতীয় পুরানো দলের নেতৃত্ব কে দেবেন সে ব্যাপারে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির গুটিকয় সদস্যকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কে দিল? তারা হলেন এআইসিসি বা অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির প্রতিনিধি। নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এআইসিসি। ওয়ার্কিং কমিটির মত কখনও গোটা কংগ্রেসের মত হতে পারে না। তাঁর (Kapil Sibal) সাফ কথা, ‘ঘর কি কংগ্রেস' চাই না। চাই ‘সব কি কংগ্রেস।' তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই তাঁর এই বক্তব্যের পরিণতি যাই হোক না কেন, ‘সব কি কংগ্রেস’-এর জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং আমৃত্যু একজন কংগ্রেসি থাকবেন।
তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী নেতা (Kapil Sibal) বলেন, কোনও উন্নত গণতন্ত্রে বারে বারে ব্যর্থ নেতার পদ আঁকড়ে থাকার নজির নেই। ব্রিটেনে একবার ব্যর্থ হলেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান নেতা। পদ আঁকড়ে থাকার একটি নজিরও নেই। ইউরোপেও ছবিটা একই।

শুধু ব্যর্থতার দায়ে নয়, সফল ব্যক্তিকেও অন্যকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়, এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। এই প্রসঙ্গে তিন ক্রিকেটারের নাম নিয়েছেন কপিল। তাঁর বক্তব্য, সুনীল গাভাসকার, শচীন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলিদের নাম ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু তাঁরাও নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুনদের সুযোগ দিয়েছেন। যদি এই মহান, নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটাররা এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, তাহলে একটি গণতান্ত্রিক দলে কেন নেতৃত্ব বদল হবে না? সনিয়া, রাহুলদের অপসারণ চেয়ে তাঁর অভিমত, স্বচ্ছ, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি বেছে নেওয়া হোক। নতুন সভাপতিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হোক।
তাঁর এই বক্তব্যের লক্ষ্য যে সনিয়া, রাহুল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। চলতি পরিস্থিতিতে সনিয়া গান্ধীর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি কোনও প্রশ্ন না তুললেও সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধীকে একহাত নিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা। তাঁর বক্তব্য, পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসাবে চরণজিৎ সিং চান্নির নাম রাহুল গান্ধী ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তিনি কে এই ঘোষণা করার? তিনি কি কংগ্রেসের সভাপতি? আসলে তিনিই কার্যত কংগ্রেস সভাপতি। তিনিই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তারপরও ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুলকে ফের সভাপতি করার প্রস্তাব ওঠার অর্থ দাঁড়াচ্ছে ফের তাঁকে উত্তরাধিকার সূত্রে সভাপতির পদে ফেরানোর কথা বলা হচ্ছে। অথচ তিনিই বকলমে সভাপতি।
সিব্বলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি নেতা হিসাবে রাহুল গান্ধীকে অযোগ্য মনে করেন? সিব্বল সরাসরি ‘হ্যাঁ' না বলে কার্যত সেটাই বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমি ব্যক্তি বিশেষের সমালোচনা করতে চাই না। আমি আসলে কংগ্রেসের উজ্জ্বল অতীত নিয়ে ভাবিত। সেই গৌরবজ্জ্বল দিনে দলকে ফেরাতে না পারলে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বর্তমান কংগ্রেসের জায়গা হবে ফুট নোটে। আমি তা চাই না।
প্রসঙ্গত, সনিয়া গান্ধী ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৭—টানা ১৯ বছর কংগ্রেস সভাপতি থাকার পর পুত্র রাহুলের হাতে ব্যাটন তুলে দেন। এই ১৯ বছরের মধ্যে দু’বার তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে। ২০১৪-তে দলের নির্মম পরাজয় হয়। সেই সঙ্গে একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া হয় হাত চিহ্নের পার্টির। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁডান রাহুল গান্ধী। সেই থেকে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলেছেন সনিয়া। ২০১৪-র পর থেকে এ পর্যন্ত মা ও ছেলের নেতৃত্বে কংগ্রেস দ্রুত জমি হারাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কংগ্রেস একক শক্তিতে বিজেপিকে হারাতে পেরেছে তিনটি মাত্র রাজ্যে—রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে। এর মধ্যে দল ভাঙিয়ে বিজেপি ফের মধ্যপ্রদেশ নিজেদের দখলে নিয়েছে। কংগ্রেসের সদ্য হাতছাড়া হয়েছে পাঞ্জাব। সনিয়া গান্ধীর পার্টির হাতে এখন মাত্র দু'টি রাজ্য রাজস্থান ও ছত্তিশগড়।
আরও পড়ুন : Hijab Row : হিজাব বিতর্কে কোর্টের রায় মঙ্গলবার, কর্নাটকে বন্ধ স্কুল, জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা