
শেষ আপডেট: 27 June 2023 05:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চল্লিশ বছর আগের ঘটনা। কিন্তু এখনও কত সজীব, কত প্রাণবন্ত। ১৯৮৩ সালের প্রুডেশশিয়াল কাপ জয়ের সেই মুহূর্ত ভারতীয় ক্রিকেটে অমর হয়ে থাকবে। সেবার প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে গেলেও পরের তিনটি ম্যাচের হারের পরে নানা সমালোচনাও হয়। সেইসময় কেউ ভাবতেও পারেননি ভারত জিততে পারে।
প্রতিবছরই ২৫ জুন আসবে, আর এই দিনটির কথা মনে আসবে সকলের। নন্দনে এক আলোচনাসভায় হাজির ছিলেন বাংলার প্রাক্তন দুই ক্রিকেটার অরুণ লাল ও অশোক মালহোত্রা। পাশাপাশি ছিলেন কিংবদন্তি ক্রীড়া সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য, যিনি সঞ্চালনা করলেন পুরো অনুষ্ঠানটি। ছিলেন শ্রেণিক শেঠ, যিনি ২৫ জুন, ১৯৮৩ সালের সেই মহাসন্ধিক্ষণে লর্ডসের মাঠে হাজির থেকে নানা অমূল্য ছবি তুলেছিলেন।
শুধু তাই নয়, ফাইনালে হারের পরে ক্যারিবিয়ান সুপারস্টার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে কফি খেয়েছিলেন এই ক্রিকেট প্রেমী মানুষটি। তিনি এও বললেন, বিশ্ব জয়ের পরে কার্যত হেঁটে হেঁটে জনস্রোতের মধ্যে দিয়ে কপিল, সানিরা হোটেলে ফিরেছেন। যেহেতু টিম হোটেলের বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ছিল সেইজন্য আমি যেতে পেরেছি ভিভের কাছে।
শ্রেণিক শেঠের মতো মানুষরা ভাগ্যবান। তিনি চোখের সামনে দেখেছিলেন কপিলদের বিশ্বজয়। ওই জয়ই সারা ভারতকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছিল। ওই জয় পাশাপাশি বসে উপভোগ করেছিল হিন্দু-মুসলমানরা।

আলোচনাসভায় অরুণ লাল বলছিলেন, যেদিন ২৫ জুন ভারত বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেদিন আমি সিসিএফসি-তে ছিলাম। আমি ভারতের হয়ে ১/১০ বাজিতে জিতে ১০০ টাকা পেয়েছিলেন। অরুণের বক্তব্য, জিম্বাবোয়ে ম্যাচে কপিলের ১৭৫ রান ও ভারতের দুরন্ত জয়ের পরে যে মোমেনটাম পেয়ে গিয়েছিল দল, বাকি টুর্নামেন্টে সেটাই অক্সিজেন হিসেবে কাজ করে।
অশোক মালহোত্রা বলেন, কপিলদের বিশ্বজয় ভারতবাসীদের নানা কাজে প্রেরণা দিয়েছিল। একটা বিশ্বাস এনেছিল দেশবাসীর মনে। আমরাও পারব, এই আত্মবিশ্বাস আসে। ভারতীয় ক্রিকেটের সূর্যোদয় ঘটেছিল। অশোক সেইসময় ছিলেন লন্ডনে একটি লিগের ম্যাচে। সেখানেই খবর পান। অশোকের অবশ্য আক্ষেপ রয়েছে, ওই বিশ্বকাপের আগে ও পরে ভারতীয় দলে থাকলেও বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েন। সেই নির্বাচকদের সঙ্গে দেখা হলে যে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিয়ে দেবেন, সেটিও হাসি মুখে বলছিলেন।
ওই মেগা আসরে যাওয়ার সময় কেউ ভাবতেও পারেননি কপিলরা বিশ্বসেরা হতে পারেন। সবাই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের পরে দেশের মধ্যেও একটা প্রাণসঞ্চার ঘটে।
অনুষ্ঠানে সূত্রধরের কাজটি সুনিপুণভাবে করেছিলেন গৌতম ভট্টাচার্য। তিনি ওই বিশ্বকাপের নানা ঘটনা তুলে ধরে প্রশ্ন করছিলেন অরুণ ও অশোক মালহোত্রাকে। অশোক বলেন, তিনি সেই সময়ে লন্ডনের একটি লিগে খেলছিলেন। সেখানেই তিনি শুনতে পান ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের কথা।
অশোক মনে করেন, বিশ্বকাপের মতোই ১৯৮৫ সালে বেনসন হেজেস কাপের জয়ও ভারতকে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। ওই টুর্নামেন্টেই রবি শাস্ত্রী অডি গাড়ি পেয়েছিলেন। যদিও বাংলার প্রাক্তন নামী ক্রিকেটারের ধারণা, ওটাও বিশেষ তাৎপর্যের ঘটনা, যেহেতু ১৯৮৩ বিশ্বকাপের আসর, তাই সেই ঘটনা মিথ হয়ে গিয়েছে।
কপিলের সঙ্গে মালহোত্রার অভিন্নহৃদয় সম্পর্ক। ভারতীয় দলের প্রাক্তন তারকা অনুষ্ঠানে জানালেন, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কপিলের ১৭৫ রানের ইনিংসের পরে আমি বহুবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কুকু (কপিলের ডাকনাম) ওই ইনিংস তুই খেললি কী করে? বারবারই আমাকে জানিয়েছে, ‘ছোড় ইয়ার, ও হো গয়া!’ আরে ওটা হয়ে গিয়েছে। ওকে আমার সেইসময় মহাত্মা গান্ধী মনে হয়!
সোশ্যাল স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গত চারদিন ধরে স্পোর্টস ফিল্ম ফেস্টিভাল হয়েছে। শেষদিন রবিবার হল কপিলদের বিশ্বজয় নিয়ে সিনেমা ৮৩। সাফল্যের সঙ্গে এই উদ্যোগকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন বিশ্বরূপ দে, রঙ্গন মজুমদারদের মতো নামী প্রশাসকরা।