দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিমধ্যেই দেশের করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার একটা কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে তবলিঘি জামাতের জমায়েতকে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বারবারই বলেছে, ওই জমায়েত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে আরও বেশি সংখ্যায় এবং আরও বেশি গতিতে। এর মধ্যে ভয় বাড়িয়েছে, কিছু জামাত সদস্যের 'লুকিয়ে থাকা'র খবর। এবার অভিযুক্তদের খুঁজে দিলে ১০ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করল কানপুর পুলিশ।
অভিযোগ উঠেছে, তবলিঘির সমাবেশ থেকে করোনা ছড়ানো নিয়ে দেশজোড়া উত্তেজনার মধ্যেই নাকি গা-ঢাকা দেন কয়েক জন সদস্য। বারবার অনুরোধ-উপরোধ সত্ত্বেও দিল্লি থেকে ফেরার দু'সপ্তাহ পরেও ওই তবলিঘি সদস্যরা করোনা পরীক্ষার জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হননি। উল্টে অভিযোগ, আত্মগোপন করে রয়েছেন তাঁরা। পুলিশের দাবি, ঘটনার গুরুত্ব না বুঝে পুলিশের কথা না শোনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই অবস্থায় সোমবার অভিযুক্তদের নামে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে কানপুর পুলিশ।
কানপুর রেঞ্জের ইনস্পেক্টর জেনারেল মোহিত আগরওয়াল বলেন, এখনও ওঁরা যদি নিজে থেকে এসে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেন, তাও ভাল। নইলে, কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন পরে এই তবলিঘি জামাতের জমায়েতের ব্যাপার সামনে আসে। জানা যায়, মার্চ মাসে সেখানে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার জামাত সদস্য জড়ো হয়েছিল। এমনকি নিজামুদ্দিন এলাকায় একটা ছ’তলা বাড়িতে সবাইকে বেশ কয়েক দিন ধরে রাখা হয়। সেখান থেকে কোভিড ১৯ সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল নিজে দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে সেখান থেকে বের করে আনেন।
এই জমায়েত থেকে অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিরে যায়। ফলে সেইসব রাজ্যেও ছড়াতে থাকে সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সব রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়, জমায়েতে যোগ দেওয়া সদস্যদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে রাখার। সেই কাজে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয় রাজ্যগুলিকে। ইতিমধ্যে এই সংগঠনের প্রধানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
এর পরেই কানপুর পুলিশ জানিয়েছে, তবলিঘির জমায়েতে যোগ দেওয়া সদস্যরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার এবং গোটা সমাজকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গত তিন দিনে কানপুরে করোনাভাইরাস পজিটিভ মানুষের সংখ্যা অনেকটা বাড়ার কারণ হিসেবে এই জমায়েতের কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। জানা গেছে, কানপুরের মোট করোনাভাইরাস আক্রান্ত ৭৪ জনের অধিকাংশেরই তবলিঘি জামাতের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের যোগ আছে।
মোহিত আগরওয়াল বলেন, "তবলিঘ জামাত সদস্যদের এগিয়ে আসার আবেদন করছি। স্বেচ্ছায় এগিয়ে এলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে না, কিন্তু এর অন্যথা হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। আত্মগোপন করে থাকা তবলিঘি জামাত সদস্যদের খবর পুলিশকে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।" খবর দেওয়া লোকজনের পরিচয়ও গোপন রাখা হবে বলে ঘোষণা করে পুলিশ।