
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 June 2024 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে যে প্রশ্নটা ঘুরছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই প্রশ্নটাই সরাসরি তুললেন। তা হল, পর পর এত দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, দুটি ট্রেনের সংঘাত এড়াতে যে যন্ত্রটা থাকার কথা সেটা কোথায় গেল?
সোমবার সকালে শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে পিছন থেকে এসে ধাক্কা মারে একটা মালগাড়ি। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের পর নীচবাড়ি ও রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যে ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। যে ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বহু।
#WATCH | On Kanchenjunga Express train accident, West Bengal CM Mamata Banerjee says, "...They (Railway Ministry) don't care about passenger amenities. They don't even care about railway officials, railway engineers, railway technical staff and workers. They are also in trouble.… pic.twitter.com/o3wKH4BRgK
— ANI (@ANI) June 17, 2024
এদিন এই ট্রেন দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই, প্রশ্নের মুখে পড়েন রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো। গত বছর খানেকের মধ্যে বেশ কয়েকটি ভয়ঙ্কর রেল দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। আর প্রতিবারই তিনি একটি যন্ত্র তথা প্রযুক্তির কথা শুনিয়েছেন। তার নাম ‘কবচ’। যে যন্ত্র দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘাত বা পিছন থেকে এসে ধাক্কা মারার মতো ঘটনা রুখে দেবে।
এদিন মমতা বলেন, আমি রেলমন্ত্রী থাকার সময়ে অ্যান্টি কলিউশন ডিভাইস লাগিয়েছিলাম। কোঙ্কন রেল সেই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছিল। আমি মাডগাঁওয়ে তাদের কারখানায় গিয়েছিলাম। সেই ডিভাইস কোথায় গেল?
সাংবাদিকরা মমতাকে বলেন, রেল এখন কবচ নামে একটা ডিভাইস লাগাচ্ছে। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চান, এসব বুজরুগি। একটাই যন্ত্র ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নতুন নামকরণ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ভাতকে কেউ ভাত বলে, কেউ বলে রাইস। তাতে কোনও ফারাক হয় না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্তত কুড়ি জন যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতের সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁর কথায়, “এর দায় কে নেবে?”
রেল দুর্ঘটনা রুখতে সরকারের সামগ্রিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেলের অবস্থা শুধরোতে কোনও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। শুধু বাইরে থেকে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে। আমি দুরন্ত এক্সপ্রেস চালু করেছিলাম। সেটাই কি এখন বন্দে ভারত বলে চালানো হচ্ছে?
মমতার কথায়, “রেল এখন অনাথ হয়ে গেছে। আগের মতো শ্রী নেই। মাধুর্যও নেই। যাত্রী স্বাচ্ছন্দের ব্যাপারে কোনও খেয়ালই রাখা হয় না। যাঁরা দূরপাল্লার ট্রেনে যাতায়ত করেন, তাঁরাই বলেন, বেড লিনেন খুবই নোংরা”।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন রেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তিনি উত্তরবঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও ফ্লাইট পাননি। এ ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়েছেন, মমতা। তাঁর কথায়, বাংলা থেকে সব ফ্লাইট তুলে দেওয়া হচ্ছে। চক্রান্ত করছে বাংলার বিরুদ্ধে।