
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা।
শেষ আপডেট: 20 June 2024 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কারণ ঠিক কী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে জোরকদমে। কোনও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া না গেলেওষ প্রথম দিন থেকেই রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে ইঙ্গিত করা হয়েছিল, মালগাড়ির লোকো পাইলট সিগন্যাল না মানার কারণেই ঘটেছে এমন কাণ্ড। মালগাড়ির দুই চালক মারাও গিয়েছিলেন বলে জানা গেছিল। এই ঘটনায় প্রতিবাদ করেছিল লোকো পাইলটদের সংগঠন। দাবি করেছিল, তদন্তের আগেই চালকের উপর দোষ চাপিয়ে দায় এড়াতে চাইছে রেল। শুধু তাই নয়, ঘটনার এক দিন পরে জানা যায়, মালগাড়ির সহচালক জীবিত রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি তিনি। তবে কথা বলার মতো অবস্থায় এখনও নেই।
এর পরে একদিন না কাটতেই, ফের রেলের তরফে জানানো হল, মালগাড়িটি নিয়ম বহির্ভূত ভাবে অতিরিক্ত বেশি গতিতে ছিল। সে কারণেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। এমনকি কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার বুধবার দাবি করেছেন, মালগাড়িটির গতি বেশি দেখে সতর্কও করা হয়েছিল। রাঙাপানির গেটম্যান নিজে টেলিফোন করে সতর্ক করেছিলেন বলেই জানা গেছে। হিসেব মতো সে সতর্কবার্তা স্টেশন মাস্টারের কাছে পৌঁছনোর কথা। সত্যিই এমন হয়েছিল কিনা, তা যাচাই করে দেখা হবে।
তবে সুরেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, এখনও সবটাই প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অনুমান করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনের বয়ান নেওয়া হয়েছে। আরও অন্তত ৩০ জনকে তলব করা হয়েছে। তাঁদের বয়ানও নেওয়া হবে এবং মিলিয়ে দেখা হবে। তার পরেই সামনে আসতে পারে আসল কারণ।
মালগাড়ির গতিবেগ সংক্রান্ত অভিযোগের কথা শুনে রেলকর্মীদের একাংশ দাবি করছেন, যদি এমন হয়েও থাকে, তাহলেও তার দায় একা মালগাড়ি চালকের নয়। কারণ কাগজে লেখা যে নির্দেশ অর্থাৎ 'টি/এ ৯১২’ ফর্ম মেনে ট্রেন চলছিল, তাতে ট্রেনের গতিবেগ নিয়ে কোনও নির্দেশই থাকে না। এই নির্দেশ থাকে ‘টি/ডি ৯১২’ ফর্মে। এই ফর্মে লেখা থাকে অ্যাবসলিউট ব্লক সিস্টেম’-এর কথা। অর্থাৎ একটি লাইনে একই সময়ে দু’টি স্টেশনের মধ্যে কেবলমাত্র একটি ট্রেনই চালানো যাবে। দুই স্টেশনমাস্টার নিজেদের মধ্যে কথা বলে এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। সর্বাধিক ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানোর কথাও লেখা থাকে এই ফর্মে।
দুর্ঘটনার দিন যেহেতু ভোর থেকেই স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা খারাপ ছিল, সেক্ষেত্রে কেন ‘টি/ডি ৯১২’ ফর্মের মাধ্যমে গাড়ি চালানো হয়নি, উঠেছে সেই প্রশ্নও। এটাই আসল অনুমতিপত্র হওয়া উচিত ছিল। 'টি/এ ৯১২’ ফর্ম এক্ষেত্রে কার্যকর হওয়ার কথাই ছিল না।
ডিআরএম জানিয়েছেন, এই গোটা বিষয়টিই খতিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। স্পিডোমিটারে মালগাড়ির গতিবেগ কত ছিল, সেটাও দেখা হবে। মালগাড়ির ইঞ্জিনেও ফরেনসিক তদন্ত হবে। চালকের ত্রুটি নিয়ে যে সন্দেহ হয়েছে, তাও তদন্ত করে দেখা হবে। তবে তদন্ত শেষ হতে শেষমেশ কত সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না এখনই।