পুরনো দিনের তৃণমূল অফিসের কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ বলছিলেন, এখন যে তামঝাম রয়েছে পার্টি অফিসে, সেটা তখন ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা টেলিফোন, টেবিল। সেই ছবি আর এখনের ছবিটায় আকাশ-পাতাল তফাৎ।

কল্যাণ-ফিরহাদ
শেষ আপডেট: 6 December 2025 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ধ্বংস হয়েছিল বাবরি মসজিদ (Babri Masjid)। ধ্বংসের পরের বছর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর সংহতি দিবস পালন করে আসছে তৃণমূল। এবার কর্মসূচি আয়োজনের দায়িত্বে ছিল তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠন। শনিবার দুপুরে সেই সভাতেই 'পুরানো সেই দিনের কথা'। তাও আবার শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) গলায়।
না না, কল্যাণ কোনও গান করেননি। বক্তৃতা দেওয়ার সময় সেকালের তৃণমূল ভবন নিয়ে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মঞ্চে তখন শশী পাঁজা, সায়নী ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্জ-সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতা মন্ত্রীরা তো ছিলেনই, মধ্যিখানে বসে ছিলেন ফিরহাদ হাকিমও। কল্যাণের নস্ট্যালজিক হয়ে পড়ার গল্পে যে তিনিও অনায়াসে ঢুকে পড়বেন সেটা বোধহয় মেয়র নিজেও ভাবতে পারেননি।
পুরনো দিনের তৃণমূল অফিসের কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ বলছিলেন, এখন যে তামঝাম রয়েছে পার্টি অফিসে, সেটা তখন ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা টেলিফোন, টেবিল। সেই ছবি আর এখনের ছবিটায় আকাশ-পাতাল তফাৎ। কল্যাণ বলতে বলতে জানান, ওই ঘর দেখেছিলেন তিনি, মানিক (ধরে নেওয়া যেতে পারে মানিক ভট্টাচার্য)। ঠিক তখনই পিছন থেকে বুঝি ববি বলে ওঠেন, 'আমিও ছিলাম'।
কল্যাণও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। ভরা সভায় মাইকের সামনেই বলে ওঠেন, "না না, ববি যতই বলুক, ও তখন ছিল না। অরূপ ছিল (অরূপ বিশ্বাস)।" ওদিকে, ববি তখন হাসছেন। নাকি খানিকটা অপ্রস্তুতেই পড়লেন বোঝা দায়! মঞ্চে উপস্থিত বাকিরাও দ্বৈরথের এহেন ছোট্ট মজায় হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। তারপরই চেনা ঢঙে শুরু করলেন বিরোধীদের কটাক্ষ করা।
নাম না করে প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে (Abhijit Ganguly) কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, "একদিন যে লোকটা ভগবান হয়ে উঠেছিল, রিকশা, অটোর পিছনে 'তুমি ভগবান, তুমি ভগবান' লিখে যার পোস্টার পড়ত, সেই তিনিই এখন শয়তান হয়ে গিয়েছেন।"
অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে তিনি বলেন, "সিপিএম-এর লোকেরা চাকরি খেয়ে চলে যায়। আর আমাদের চ্যালেঞ্জটা এই জায়গায়। বাংলায় কয়েকটা উকিলের জন্য কলকাতার প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে থাকবে কিনা, সেটাই আমরা জানতে চাই। একটা পচা-গলা-মরা জীবকে প্রতিষ্ঠানের কোনও কোনও একজন খালি প্রাণ দিয়ে যাচ্ছে। এই সিপিএমের লোকই চাকরি খেতে এসেছিল, আটকে দিয়েছি। বলে দিলাম, একদম চোখ রাঙাবেন না। অভিষেক হল আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আর দিদি ছিল আছে থাকবে।"
বস্তুত, এই সংহতি দিবসে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। লেখেন, কিছু রাজনৈতিক দল রাজ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।