
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 May 2025 00:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমরা অনেকেই জানি না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সত্যজিৎকে জিনিয়াসের তালিকায় বসানো হয়েছে আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সত্যজিতের দ্বারা যে কতটা প্রভাবিত তা বলে বোঝানো যাবে না। ফ্রান্স তো তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি। আমেরিকা-ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও পর্তুগাল, তুরস্ক, তাজিকিস্তানেও তাঁকে নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। এইসব অকথিত ঘটনা নিয়ে শুক্রবার সত্যজিৎ রায়ের ১০৫ তম জন্মদিনে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্স থেকে প্রকাশিত হবে সত্যজিৎ গ্রন্থমালার পঞ্চম খণ্ড ‘অপরাজিত সত্যজিৎ’। মোড়ক উন্মোচন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল। গ্রন্থ প্রকাশকে কেন্দ্র করে আগামীকালই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে একটি বিশ্বমানের আলোচনাসভা। বলবেন চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, অভিনেত্রী-পরিচালক চৈতী ঘোষাল, প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনম্বর আদিত্য চৌধুরী ও অধ্যাপক নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায়।
অনেকেই বলেছেন, সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে খণ্ডে খণ্ডে গ্রন্থ সম্পাদনা নাকি বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে নজিরবিহিন ঘটনা। অনেকেই আবার প্রশ্ন করেছেন, সত্যজিৎ তো আর রবীন্দ্রনাথ নন, তবে তাঁকে নিয়ে কেন এত মাতামাতি? উত্তরে গ্রন্থ সম্পাদক সুখেন বিশ্বাস বলেন, “প্রাচ্যের উপনিষদীয় শৃঙ্খলা, পাশ্চাত্যের যুক্তিবাদী নিষ্ঠা ও পরিশ্রম-মনস্কতায় সত্যজিৎ যেন স্বর্গীয় অনুভূতির জলসাঘর। তিনি তো বাঙালিয়ানার চিরন্তন প্রতিচ্ছবি।” গ্রন্থটির ভূমিকায় সত্যজিৎ বিশেষজ্ঞ শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “লক্ষ করেছি, ইতিহাসগতভাবে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যায়তনিক প্রাতিষ্ঠানিকতার প্রসাদে, খণ্ডে খণ্ডে ‘অপরাজিত সত্যজিৎ’ প্রকাশে ওই চর্চাকল্পেরই যেন আর এক স্তরে উত্তরণ ঘটেছে।”
পৃথিবীর নয়টি দেশ যেমন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, পরতুগাল, জার্মানি, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ভারতের ৫৫ জন লেখক লিখেছেন। লেখকসূচিতে রয়েছেন ক্লারা লোর্যান্ড, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, স্মরণ ঘোষাল, পবিত্র সরকার, সুব্রত রুদ্র, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, কিন্নর রায়, জীতু কামাল, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, হিরণ মিত্র, সম্রাট মুখোপাধ্যায়, অভিষেক রথ, বরুণজ্যোতি চৌধুরী, রাতুল বন্দ্যোপাধ্যায়, আবাহন দত্ত, প্রেমাংশু চৌধুরী প্রমুখ। সঙ্গে রয়েছেন সত্যজিতের মামাতো বোন সুকৃতি রায়চৌধুরী ও ভাগ্নে অরূপ রায়চৌধুরীর আবেগঘন স্মৃতিচারণা। দুটি লেখাতেই সত্যজিতের জীবনের অনেক অজানা দিক ফুটে উঠেছে।
পরিশিষ্ট অংশটি অন্যরকম। বিশেষ করে সত্যজিতের কিছু অপ্রকাশিত ছবি, যেগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানে তোলা। পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ও তথ্যচিত্রে যে-সমস্ত গান ব্যবহার করেছেন সত্যজিৎ তার গীতিকার, সুরকার, শিল্পীর তালিকা পরিশিষ্ট অংশে রয়েছে, যার ফলে শেষ খণ্ডটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এক ঝলকেই যে কোনও পাঠক এখান থেকে সিনেমায় তাঁর সঙ্গীতভাবনা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবে। জীবিতকালেই মহাপুরুষের স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। বিগ্রহ হয়ে উঠেছিলেন, নিজেই আবার বিগ্রহসত্তা ভেঙেছেন। তিনি বৃহৎবঙ্গীয় সুরকার। সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে তাঁর ভারত দর্শনের ছাপ স্পষ্ট। রুশিদের চোখে সত্যজিৎ রায় হীরক খণ্ড, ভারতীয় সিনেমার আইকন।