
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 November 2024 23:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হওয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে 'থ্রেট কালচার'-এর অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের পাল্টা যে সংগঠন সেই ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন তাঁদেরই বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছে। এই ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে কার্যত দলের ছাত্র সংগঠনের সভাপতির ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি তুললেন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি পদ থেকে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে সরানোর।
'থ্রেট কালচারের' অভিযোগে আরজি কর থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল একাধিক জুনিয়র ডাক্তারকে। তাঁরা মূলত তৃণমূলপন্থী বলেই পরিচিত। এঁদের অনেকেই ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। তাঁরাই সাংবাদিক বৈঠক করে ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে টাকা তোলা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। রবিবার এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, ছাত্র পরিষদের পড়ুয়াদের পাশে যে সভাপতি দাঁড়ায়নি, তাঁর পদে থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ''কার আশীর্বাদ এর মাথায় আছে, যে এখনও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি থাকে?''
কল্যাণ দাবি করেছেন, প্রতিবাদের নাম করে থ্রেট কালচার করেই হাসপাতালগুলিকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ শূন্য করার প্রচেষ্টা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ''বাম আর অতিবাম মিলে মেডিক্যাল কলেজ চালাতে চাইছে। তাঁরা চায়, তাঁদের কথায় প্রিন্সিপাল চলুক। এটা হতে পারে না। এটাই সবথেকে বড় থ্রেট কালচার।'' এই প্রসঙ্গেই কল্যাণের বক্তব্য, ''তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতিকে তো দেখলাম না এই ছেলেগুলির পাশে দাঁড়াতে। দলের আজ দেখা উচিত, এঁরা কেন ছাত্র পরিষদের সভাপতি পদে থাকবে যারা ভুক্তভোগী ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়াতে পারে না?'' কল্যাণের কথায়, সময় এসেছে যখন সবকিছুর পর্যালোচনা করা দরকার। যে বিপদের সময়ই ছাত্রদের পাশে থাকে না সে কীসের সভাপতি, প্রশ্ন কল্যাণের।
তৃণমূল সাংসদের কথায়, ''এতগুলো ছেলে আজকে সাসপেন্ড আর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতির মুখ থেকে কোনও ভাষা, কোনও কথা নেই। আমি ভাবতে পারছি না। কার আশীর্বাদ এর মাথায় আছে, যে এখনও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি থাকে? আমার দেখে খারাপ লাগে। ওরা আমার কাছে আসছে। কুণাল ওঁদের খেয়াল রেখেছে। আমরা লড়াই করছি।'' প্রসঙ্গত, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করেন। তাহলে কি কল্যাণ এমন মন্তব্য করে, এই প্রশ্ন তুলে পরোক্ষে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকেই নিশানা করলেন, দলের অন্দরেই এই নিয়ে প্রশ্ন জন্মেছে। বাড়ছে কৌতূহলও।
রবিবারই আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশকে ফের নিশানা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ''নিজেরা হাসপাতালে কাজ করবে না, রোগীদের বড় বড় নার্সিংহোমে পাঠিয়ে দেবে। আমি সরকারের কাছে আবেদন করব হাসপাতালে সব লাইভ স্ট্রিমিং করুন৷ কোন ডাক্তার কী কাজ করছেন, কোন রোগীর কী চিকিৎসা করছেন, তা যেন সব আমরা দেখতে পাই।'' জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছিল। তবে প্রতিবারই তাঁদের দাবি ছিল লাইভ স্ট্রিমিংয়ের। বারবার সেই দাবি নাকচ করা হলেও শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার করিয়েছিলেন। এখন কল্যাণ চাইছেন হাসপাতালেও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে ডাক্তাররা কী কাজ করছেন তা স্পষ্ট হবে।
আরজি করের আন্দোলন থেকে রাজ্য সরকারেরও বিস্তর সমালোচনা করা হয়। এই ইস্যুতে কল্যাণ বলেন, কেউ কেউ ভেবেছিল নাচ-গান করলে, রাস্তায় ছবি আঁকলেই ১৪ তলায় উঠে সরকার গঠন করে দেবে! এসব হয় না।'' তাঁর কটাক্ষ, ''কোনও সিনিয়র ডাক্তার এই পথে যায়নি। তাঁরা জানে মানুষের পরিষেবা তাঁদের কাছে বড়। হঠাৎ করে কয়েকজন ছেলেমেয়ে শুধু বিপ্লব আরম্ভ করল।''