1.jpeg)
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 22 February 2025 09:21
সুমন বটব্যাল
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র, বর্তমানে 'অরাজনৈতিক' শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ডিভোর্স মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, 'রত্না প্রভাবশালী, ইচ্ছে করে শোভনকে ডিভোর্স দিচ্ছে না'!
দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের সাংসদের এহেন বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে শাসকদলের অভ্যন্তরে তো বটেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতির উঠোনেও। চর্চার বিষয়বস্তু, শাসকদলের জন প্রতিনিধি হলেই কি প্রভাবশালী?
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই বড় অভিযোগ এনেছেন বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সন্ধেয় টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে রত্না বললেন, "আমি তো কল্যাণদার (বন্দ্যোপাধ্যায়) কথাতেই শোভনকে ডিভোর্স দিচ্ছি না! উনিই তো হাইকোর্টে আমাকে এক ঘণ্টা ধরে কত পরামর্শ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'বৈশাখী সভ্য নয়, কত সংসার ভেঙেছে তার ঠিক নেই! শোভনকে ডিভোর্স দিবি না, তুই লড়াই কর! আমি তোর পাশে আছি!' সেই কল্যাণদা পাল্টি খেয়ে গেলেন!"
এ ব্যাপারে আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "রত্না মিথ্যে কথা বলছেন। আমার সঙ্গে ওর এরকম কোনও কথাই হয়নি। আমিও এরকম কিছু বলিনি।" একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, "একথা ঠিক, রত্নার সঙ্গে হাইকোর্টের করিডরে আমার একবার দেখা হয়েছিল। তবে সেটা ১ ঘণ্টা নয়, ৫ মিনিট কথা হয়েছিল। খুবই মামুলি কথাবার্তা।"
এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "কে সভ্য নয় সারা দুনিয়া জানে। রত্না তো সংসার বলে কিছু রাখেইনি। তো বৈশাখী ভাঙবে কী। রত্নার মুখের ভাষা খারাপ, আলিপুর আদালত চত্বরে বা তার বাইরে রত্না কী ভাষায় কথা বলেছে, সবাই দেখেছে।'' শোভন আরও বলেন, বৈশাখীর যথেষ্ট শিক্ষাদীক্ষা রয়েছে। ও কখনই অশালীন কথা বলে না। পরিশীলিত ভাষায় কথা বলে। প্রাক্তন মেয়রের কথায়, রত্না ডিভোর্স না দেওয়ার কে। এটা তো আদালতের বিচারাধীন। আদালতই এ ব্যাপারে রায় দেবে।
গত প্রায় সাত বছর ধরে আদালতে ডিভোর্স মামলা চলছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় বনাম তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। আলিপুর আদালত হয়ে সম্প্রতি মামলাটি এসেছে কলকাতা হাইকোর্টে। এদিন শোভনের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, "রত্না নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রভাবশালী না হলে এটা কীভাবে সম্ভব?"
তারই প্রেক্ষিতে এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। আত্মপক্ষ সমর্থনে তাঁর দাবি, "সবাই জানে, কে প্রভাব খাটাচ্ছে, কে কী ভাবে কেস সাজানোর চেষ্টা করছে, আমি বিধায়ক হলেও অত্যন্ত সহজ সরল জীবনযাপন করি। অথচ দলের একজন সাংসদ হয়ে কল্যাণদা আমার ভাবমূর্তি খারাপ করার চেষ্টা করছেন।"
এরপরই রত্না জানিয়ে দেন, "শোভনবাবু যদি ভাবেন আমাকে জোর করিয়ে ডিভোর্স করাতে পারবেন, তাহলে ওনার জেনে রাখা ভাল, বাংলা কেন সারা দেশে এমন কোনও আইন নেই। আমি প্রথম দিনও বলেছিলাম, শোভনবাবুকে ছাড়ব না, মানে ডিভোর্স দেব না। আজও আমি সেই সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছি।"
প্রসঙ্গত, রত্নার সংসার ছেড়ে বান্ধবী বৈশাখীর সঙ্গে থাকেন কলকাতার প্রাক্তন মহা নাগরিক। তবু তাঁকে কেন ছাড়তে চান না রত্না?
বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়কের পাল্টা প্রশ্ন, "কেন ছাড়ব? আমার স্বামী, আমি তো সব সময় তাঁর সঙ্গে সংসার করতে চেয়েছি। তাছাড়া আমি কোনও অন্যায় করিনি, দুটো ছেলে মেয়েকে আট বছর ধরে আমি সামলাচ্ছি, তাদের বাবা খোঁজ পর্যন্ত নেয় না, তাদের নাম্বার ব্লক পর্যন্ত করে রাখা হয়েছে। আমার জায়গায় আমি ঠিক। যেদিন সুপ্রিমকোর্ট রায় দেবে, সেদিন আমরা লড়াই শেষ হবে।"
এরপরই পুরনো কাসুন্দি টেনে রত্নার দাবি, "কল্যাণবাবুও মেয়ের বাবা। তার মেয়েরও ডিভোর্স হয়ে গেছে। তা নিয়ে আমাকে একদিন হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা ধরে বলেছিল, আমি দুলালদার (রত্নার বাবা) যন্ত্রণাটা বুঝতে পারছি। আমার মেয়ে কেসে যা ঘটেছে তা আমি তোর ক্ষেত্রে হত দেব না। আজকে সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিচারিতা ভাবুন।"
দ্য ওয়ালকে শোভন অবশ্য বলেন, "ভদ্রতা, সভ্যতা, শালীনতার উনি ধার ধারেন না। আমি বাধ্য হয়ে ডিভোর্সের মামলা করেছি। উনি আমাকে নীচে নামাতে চাইলেও আমি কোনও খারাপ মন্তব্য করব না। আইনের প্রতি আস্থা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, আইনি পথেই আমি এর বিচার পাব।" এও বলেন, কল্যাণের মেয়ে তাঁর মেয়ের মতো। তাঁকে এসবের মধ্যে টেনে আনার কোনও মানে হয় না।