
শেষ আপডেট: 3 March 2024 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতির পদ ছাড়ছেন, প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে আসছেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্র। তিনি কোন দলে যোগ দেবেন, কোথায় প্রার্থী হবেন, আদৌ হবেন কিনা, সব নিয়ে চর্চা চলছে। বাংলার নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু মাইলফলক রায় আছে তাঁর। তা নিয়ে অবশ্য তাঁকে শাসক দলের নিশানায় পড়তে হয়েছে একাধিকবার। পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও তেমনই হল। আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এতদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
রবিবার দুপুরে একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তিনি তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। তারপর থেকেই বৃহত্তর স্বার্থে রাজনীতিতে আসবেন। এক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের শাসক দল তাঁকে যে চ্যালেঞ্জ করেছে তা গ্রহণ করছেন। আসলে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উদ্দেশে বলেছেন, উনি বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতিতে নেমে পড়ুন। এখন বিচারপতি ঠিক তেমনই ঘোষণা করায় বড় মন্তব্য করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ''আমি আগেই বলেছিলাম, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সব নির্দেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। আজ সেটাই প্রমাণ হয়ে গেল। এই বিষয় নিয়েই আমি বারবার অভিযোগ করেছিলাম। এতদিন তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিফলন ছিল। এই বিষয়টি এখন দেখা উচিত।''
এই প্রথম নয়, এর আগে একাধিকবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কল্যাণ। ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি সৌমেন সেনকে এজলাসে বসে সমালোচনা করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়, আবার রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তর সঙ্গেও তাঁর বাদানুবাদ হয়েছে। কল্যাণ সেই সময়ে অভিযোগ করেছিলেন, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একা নন, বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষের সঙ্গেও বাদানুবাদের ঘটনা রয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখেও নানা সময়ে বিচারপতির এজলাসে এবং প্রকাশ্যে নানা মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন অরুণাভ। তবে রবিবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত জানার পর অরুণাভ বলেন, ‘অভিজিৎ ভুল করছে। ও জানে না, রাজনীতির অন্দরমহল কত নোংরা এবং দুর্নীতিগ্রস্থ। ’