
গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 22 February 2025 16:00
শুক্রবার দুপুর। হাইকোর্টে বিচারপতির এজলাসে চলছে ডিভোর্সের মামলা (Divorce)। আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা সেই শুনানিতে দলেরই বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের (Ratna Chatterjee) উদ্দেশে একাধিক বাছা বাছা মন্তব্য করতে দেখা গেল তৃণমূল-সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee)।
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের (Sovan Chatterjee) হয়ে এজলাসে টানা ৪৫ মিনিট সওয়াল করাই নয়, বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্নার বিরুদ্ধে 'প্রভাবশালী তত্ত্ব'ও এনেছেন কল্যাণ। এমনকী রত্নার আচার, আচরণের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতিকে বোঝাতে চেয়েছেন, শোভন কেন রত্নার হাত থেকে রেহাই (ডিভোর্স) পেতে চান!
এহেন পরিস্থিতিতে দলে কৌতূহলের বিষয় হল, দিদিকে জানিয়ে তবেই কি শোভনের মামলা লড়ছেন কল্যাণ। কারণ, শোভন-রত্নার বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই কালীঘাটকে একেবারে না ছুঁয়ে কল্যাণ এই পথে হাঁটছেন তা অনেকেরই বিশ্বাস হচ্ছে না। বরং তাঁরা এও মনে করছেন, যে শোভনের হয়ে কল্যাণের মামলা লড়াতেই স্পষ্ট যে তৃণমূলের একেবারে শীর্ষস্তরও চাইছে এবার আপসে মিটে যাক। কতদিন ধরে আর অশান্তি চলবে?
এ প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দ্য ওয়ালকে বলেন,"পারমিশান নেওয়ার কী আছে! আমি যে মামলাগুলো লড়ি, তার খবরও হয়। দলও জানতে পারে। কারও কিছু বলার থাকলে আমার সঙ্গে কথা বলুক না!" কল্যাণ আরও বলেন, "আমি অত ইঙ্গিত বুঝি না, সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালবাসি। শোভনের আগে যদি রত্না আসতো, তাহলে ওর হয়েই মামলা লড়তাম। যে আগে আসবে তাকেই তো সুযোগ দিতে হবে নাকি!"
কল্যাণ যতটা সহজ করে বলছেন, ব্যাপারটা দলের সবাই ততটাই সহজ করে বুঝবেন কি? তা ছাড়া শোভন চট্টোপাধ্যায়কে কেন্দ্র তৃণমূলের মধ্যেই দুটি ধারা রয়েছে। কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, অনেকেই চান শোভন-রত্নার অশান্তি জিইয়ে থাকুক। কারণ, তাতে শোভনের দলে প্রত্যাবর্তনও বিলম্বিত হবে। আবার যাঁদের সেই স্বার্থ নেই, বরং শোভনের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের আবেগ রয়েছে তাঁরা মনে করেন, এবার অশান্তি মিটে গেলেই ভাল। তবে হ্যাঁ, রত্না বা শোভনের সন্তানরা যাতে বঞ্চিত না হন সেও দেখতে হবে।
তৃণমূলের অন্দরে এই বিপরীত স্রোত কল্যাণও যে আঁচ করতে পারেন না, তা অনেকেই মনে করেন না। সেই কারণেই কৌতূহল যে, কল্যাণ নিশ্চয়ই শোভনের মামলা লড়ার আগে কালীঘাটকে ছুঁয়ে নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কল্যাণ দ্য ওয়ালকে বলেন,“আমি কি দলের বিরুদ্ধে মামলা করছি নাকি? আমি একজন পেশাদার আইনজীবী। এই মামলার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। আমার কাছে যে আসবে আমি তারই মামলা লড়তে বাধ্য। অ্যডভোকেট অ্যাক্টে তেমনটাই বলা আছে।"
এরপরই এজলাসের সওয়ালের ঢঙে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাগাড়ে বলে যান, “কে তৃণমূলের বিধায়ক আর কে পঞ্চায়েত মেম্বার, এসব দেখতে গেলে তো আমাকে প্রফেশন শিঁকেয় তুলে রাখতে হবে! আমি যখন বাজারে যাই তখন তো তৃণমূলের কেউ বলে না, আসুন আলু, বেগুনটা বিনা পয়সায় নিয়ে যান! ওটা যেমন তাদের ব্যবসা তেমনই ওকালতিটা আমার প্রফেশন। আমি আমার প্রফেশনে কী করব, কী করব না, সেটা পুরোপুরি আমার সিদ্ধান্ত। এখানে কারও কোনও অনুমতি নেওয়ার বিষয় নেই।"