শ্রীরামপুর ৫ ও ৬ নম্বর পল্লিগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক কল্যাণ। প্রতিবছরই আরএমএস মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হয়।

হাউহাউ করে কাঁদলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 30 September 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাপারটা নতুন নয়। গত বারের মতো এবারও অষ্টমীর সকালে পরিচিত মেজাজেই ধরা দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। হাপুস নয়নে মমতার জয়ে ‘মায়ের আশীর্বাদ’ প্রার্থনা তৃণমূল সাংসদের (TMC MP)।
অষ্টমীর সকালে চেনা মেজাজে হাজির শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধিপুজোয় মায়ের সামনে প্রার্থনা করতে গিয়ে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন দাপুটে আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা (TMC)। জানালেন, দেবী দুর্গার কাছে শুধু সকলের মঙ্গলই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (DURGAPUJA 2025) জন্যও বিশেষ আশীর্বাদ চেয়েছেন তিনি।
‘দিদির জয়ের জন্য মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি’
শ্রীরামপুর ৫ ও ৬ নম্বর পল্লিগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক কল্যাণ। প্রতিবছরই আরএমএস মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হয়। এ বছর কোনারকের সূর্য মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপে অষ্টমীর সকালে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
সেই পুজো মণ্ডপেই প্রণাম করতে গিয়েই গলা ধরে আসে সাংসদের। বলেন, “মা সবাইকে ভাল রাখুন। শান্তিতে রাখুন। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ভাল থাকুক। ভাল সংস্কৃতি যেন তৈরি হয়।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তাঁর প্রার্থনা— “দিদির প্রতি যেন মায়ের আশীর্বাদ থাকে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দিদি যেন পশ্চিমবঙ্গের অসুরদের পরাজিত করতে পারেন।”
বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ
দেবীর আরাধনার মঞ্চেই রাজনৈতিক বার্তা দেন কল্যাণ। বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপির কোনও সংস্কৃতি নেই। ওরা দুর্গা-কালী-জগন্নাথকে মানে না। সনাতনী কারা? সনাতনী তারাই, যারা ধর্মের আলোয় আলোকিত হয়ে সব ধর্ম, সব জাতির মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলে। মায়ের কাছে সব সন্তান সমান। কিন্তু বিজেপি সেটা বোঝে না।”
‘গুজরাত মডেল বাংলায় চলবে না’
বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে কল্যাণের দাবি, “গুজরাতের থিয়োরি বাংলায় কখনও চলবে না।”
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পাঞ্জাবি পরে গতকাল নিজের পুজোর উদ্বোধন করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পুজো দেখতে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। ব্যাঙ্গ করে বলেন, 'কেন্দ্রের প্রচেষ্টায় ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। বাংলায় নরেন্দ্র মোদীর জন্মের আগে থেকে দুর্গাপুজো হয়। আসলে ওঁর স্বভাব হল যা কিছু হবে তার কৃতিত্ব দাবি করা। সেটা অপারেশন সিঁদুর হোক বা চন্দ্রাযান। বাংলায় দুর্গাপুজো হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে যে উন্মাদনা যে আবেগ ভালবাসা সেটা এসে দেখে যান। প্রধানমন্ত্রীকেও বাংলার পুজোয় স্বাগত জানাচ্ছি।'