
শেষ আপডেট: 8 November 2023 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দেবীর নাম অনুসারে গ্রামের নাম কালিকাপুর। কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের ভাগীরথী নদীর কাছে রয়েছে এই গ্রাম। অষ্টভুজা মহামায়া এখানে মা কালী রূপে পূজিতা হন।
কথিত আছে, প্রায় আড়াইশো বছর আগে দুই ব্রাহ্মণকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন দেবী মহামায়া। কুমরি গ্রামের এক ব্রাহ্মণকে প্রথম স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন দেবী। কিন্তু ওই ব্রাহ্মণ মনের ভুল ভেবে দেবীর সেই নির্দেশ পালন করেননি। পরে পাশের কালিকাপুর গ্রামের এক ব্রাহ্মণকে স্বপ্নে দেখা দেন মহামায়া। সেখানে দেবী ওই ব্রাহ্মণকে কুমরি গ্রামের এক বিল থেকে তাঁকে উদ্ধার করতে বলেন। দেবীর সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন কালিকাপুরের ওই ব্রাহ্মণ। বিল থেকে দেবী মূর্তি তুলে এনে গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
ওই সময় জঙ্গল ঘেরা কালিকাপুরে তেমন জনবসতি ছিল না। তাই দেবীর সেবা করতে গিয়ে হিমশিম খেতেন ওই ব্রাহ্মণ। পরে ''পাগলা বাবা'' নামে এক সাধক দেবীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। সেই থেকেই অষ্টভুজা মহামায়াকে কালী রূপে পুজো করা শুরু হয়।
পরে অবশ্য দেবী মন্দিরের সেবায়েতের দায়িত্ব পান মুর্শিদাবাদে এক পুরোহিত। উনিশ শতকে কাটোয়ার জমিদার তাঁকে সেখানে থেকে এনে এই মন্দিরের পুজোর দায়িত্ব দেন। সেই থেকে মন্দিরে পুজো করে চলেছেন ওই পুরোহিতের বংশধরেরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গ্রামের কোনও বারোয়ারি কালীপুজো পুজো হয় না। এমনকী অন্য কালীপ্রতিমার ছবিও বাড়িতে রাখার নিয়ম নেই এই গ্রামে। দেবী দুর্গা অর্থাৎ মহামায়াই সেখানে কালী রূপে পূজিতা হয়ে আসছেন।
কালীপুজোর দিন তন্ত্রমতে দক্ষিণাকালী রূপে পূজিতা হবেন মহামায়া। সেদিন অগ্রদ্বীপ ও গাজীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দশ বারোটি গ্রামের বাসিন্দাদের ভিড় জমবে এই কালিকাপুর গ্রামে।