দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে, ‘বাপ কা বেটা, সিপাহী কা ঘোড়া’!
কখনও কখনও তা যে ষোল আনা সত্যি ইনদওর দেখিয়ে দিল।
বাড়ি ভাঙাকে কেন্দ্র করে দু’দিন আগে ইনদওর পুরসভার এক কর্মীকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয়। আকাশ সর্বভারতীয় বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে। তার পরই ইনদওর শহর জুড়ে গুঞ্জন, এতো সত্যিই বাপের বেটা! পঁচিশ বছর আগে এক রাজনৈতিক কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে অশান্তির জেরে শহরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রমোদ শ্রীপদ পুর্নিলকরকে জুতো দিয়ে মারতে গিয়েছিলেন কৈলাস। ওই পুলিশ কর্তা অবশ্য তখন সাদা পোশাকে ছিলেন। সে দিনের সেই ছবিও এখন নতুন করে ইনদওরের মানুষের মোবাইলে-মোবাইলে ঘুরছে।
আকাশকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। গোটা ঘটনায় বিজেপি-র যে বেইজ্জতি হয়েছে তা দলের দিল্লির নেতারাও স্বীকার করছেন। এই অবস্থায় ক্ষত মেরামত করতে খোদ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ আকাশের ব্যাপারে দলের মধ্যপ্রদেশের নেতৃত্বের থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন। কৈলাসের সঙ্গেও অমিত শাহ-র এ ব্যাপারে কথা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি।
বিজেপি নেতাদের কথায়, কৈলাস বরাবরই দাবাঙ্গ নেতা। ইনদওরের কাছে মহু বিধানসভা থেকে তিনি বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু ইনদওরে রাজত্ব চালাতেন তিনি। ইনদওরের মেয়রও ছিলেন কৈলাস।
ইনদওর থেকে এর আগে লোকসভার সাংসদ ছিলেন সুমিত্রা মহাজন। যিনি গত পাঁচ বছর লোকসভায় স্পিকার ছিলেন। বিজেপি নেতারাই বলছেন, কৈলাস কার্যত অতীষ্ঠ করে রেখেছিলেন সুমিত্রা। বহুবার তাঁকে হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন বলে বিজেপি একাংশের দাবি। বিজেপি অনেক নেতা বলেন, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্খা ছিল কৈলাসের। রাজ্যের শিল্প ও পূর্ত মন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু মন্ত্রিসভায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানকে বিরক্ত করতে শুরু করে দিয়েছিলেন। সেই কারণেই মধ্যপ্রদেশ থেকে তাঁকে তুলে এনে দিল্লিতে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মারাত্মক হল, পুরকর্মীকে ব্যাট দিয়ে মারার ঘটনা নিয়ে হই চই হলেও কৈলাসের অনুগত কর্মী সমর্থকদের কোনও বিকার নেই। বরং তাঁরা শুক্রবার সকাল থেকে গোটা ইনদওরে আকাশের ছবি দিয়ে বড় বড় পোস্টার লাগান। আকাশের বীরত্বের প্রশংসা করা হয়েছে ওই পোস্টারে। লেখা হয়েছে, ‘স্যালুট আকাশজি!’ তবে বেলা গড়ালে ওই পোস্টারগুলি ছিঁড়ে দেওয়া হয় ইনদওর পুরসভার তরফে।