দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলের ভিতরে সুরক্ষিত নন ডাক্তার কাফিল খান। খুন হতে পারেন যে কোনও দিন। তাঁকে ঠিকমতো খাবারও খেতে দেওয়া হচ্ছে না, মথুরা জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনলেন কাফিলের স্ত্রী শাবিস্তা খান। তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে জেল থেকে বেরতে দেওয়া হয়নি তাঁর স্বামীকে। অভিযোগ, এখন জেলের ভেতরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে কাফিলকে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতিকে চিঠি লিখে শাবিস্তা বলেছেন, ‘‘জেলের ভিতরে বিপদ বাড়ছে কাফিল খানের। টানা পাঁচ দিন ধরে তাঁকে খেতে দেওয়া হয়নি। নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। মানসিক নির্যাতনও চলছে। আমার স্বামীকে বাঁচান।’’
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএএ-র বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে গত ২৯ জানুয়ারি মুম্বই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কাফিল খানকে। এরপরে জামিন মঞ্জুর হলেও তাঁকে জেল থেকে ছাড়া হয়নি। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলবন্দি থাকতে হবে কাফিল খানকে। তারপর থেকে মথুরা জেলেই বন্দি কাফিল।
মিডিয়ার সামনে কাফিলের স্ত্রী শাবিস্তা বলেছেন, শেষ যখন স্বামীকে দেখতে জেলে যান, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ ছিল। অসুস্থও ছিলেন। কাফিলই তাঁকে জানান যে জেলে তাঁকে ঠিকমতো খেতে দেওয়া হচ্ছে না। মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) গ্রেফতার করা হলে ধৃতকে যতদিন খুশি যত দিন খুশি আটক রাখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই ধৃতকে তার কারণ জানানোরও দায় থাকে না পুলিশের। বন্দি থাকাকালীন হাইকোর্টের উপদেষ্টা বোর্ডের কাছে আবেদন জানাতে পারেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু আইনজীবী নিয়োগ করার অধিকার নেই তাঁর। কাফিল খানের পরিবার জানিয়েছে, আলিগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটে (সিজেএম) আবেদন জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই কাফিলের মামা নুসরতুল্লা ওয়ারসিকে (৫৫) গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তদন্তে জানা যায়, সম্পত্তি নিয়ে শরিকি বিবাদ চলছিল কাফিল খানের মামার বাড়িতে। সেজন্যই তাঁর মামা গিয়েছিলেন আইনজীবীর বাড়িতে। ফেরার পথেই তাঁকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার পরেই আরও শঙ্কায় কাফিলের পরিবার। স্ত্রী শাবিস্তা বলেছেন, এক আত্মায়কে খুন করা হয়েছে। সেটাও কোনও ষড়যন্ত্র হতে পারে। সুরক্ষিত নন তাঁর স্বামীও।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর (এনআরসি) বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বলেছিল আলিগড় মুসলিম বিদ্যালয়ে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন আলিগড়ের পড়ুয়ারা। বিক্ষোভকারী পড়ুয়া ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলেজ চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জমায়েত হওয়া কয়েকশো প্রতিবাদী ছাত্রের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। চালানো হয় জলকামান। আটক করা হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে। অভিযোগ এই বিক্ষোভের সময় সেখানে হাজির ছিলেন ডাক্তার কাফিল খান। ধর্মীয় উস্কানিমূলক এমন কিছু কথা নাকি তিনি বলেন, যাতে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়। সূত্রের খবর, ১৩ ডিসেম্বর এফআইআর করা হয়েছিল ডাক্তারের বিরুদ্ধে। তারপর গত গত ২৯ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।