
Kabir Suman
শেষ আপডেট: 10 March 2024 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামনবমী উপলক্ষে এবার ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। জরুরি পরিষেবা বাদ দিয়ে সরকারি এবং সরকার পোষিত সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকতে চলেছে আগামী ১৭ এপ্রিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেন সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি লিখলেন, ''আর পারলাম না।'' ঠিক কী বক্তব্য তাঁর?
বিগত কয়েকবছরে বাংলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে রামনবমী পালনের বিষয়টি। গত বছর তো এই রামনবমীকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল রাজ্যের একাধিক জায়গায়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ ছিল বিজেপির। সেই তৃণমূল সরকারই এবার রামনবমীতে ছুটি ঘোষণা করেছে। যা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন কবীর সুমন। তাঁর বক্তব্য, ''রামনবমী মানে জাতীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন দিবস। ঐ দিন আমার রাজ্যের ছুটি হবে, চমৎকার। আমি মানছি না।''
সঙ্গীতশিল্পী রামনবমী দিনে ছুটির ঘোষণাকে হিন্দি-হিন্দুত্বওয়ালাদের তোয়াজ বলেছেন। তাঁর কথায়, ''এ রাজ্যের ভাষা বাংলা। সেই ভাষায় খেয়াল রচনা, গাওয়া শেখানো হবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কাজেই রাজ্য সরকার অস্বাভাবিক কিছু করেনি। তাদের করণীয় কাজের সীমা পেরিয়ে করেননি কিছু। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রামনবমীকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা সরকার যদি সত্যিই করে থাকে, তা হলে আমি সরকারের এই ঘোষণার, এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।''
মনে রাখতে হবে, ২০২৩ সালে রামনবমীর মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল হাওড়ার শিবপুর, রিষড়া, উত্তর দিনাজপুরের বেশ কিছু এলাকা। এই অশান্তির ঘটনার পরদিনই আদালতে গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল এনআইএ তদন্ত। আদালতও সেই নির্দেশ দিয়েছিল। রামনবমীর হিংসা মামলায় গত মাসেই রাজ্য থেকে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি বা এনআইএ।
গত বছর রামনবমীর দিন অঞ্জনী পুত্র সেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ ৪২ টি সংগঠন সেই মিছিল বের করেছিল। অভিযোগ ওঠে, তিন এলাকা দিয়ে যখন রামনবমীর শোভাযাত্রা যাচ্ছিল, সেই সময় মিছিলকে লক্ষ্য করে প্রথমে কাচের বোতল, ইট ও পাথর ছোড়া হয়। পরবর্তীতে পেট্রোল বোমাও ছোড়া হয়।