দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকার ভাঙ্গা-গড়া নিয়ে রীতিমতো নাটক শুরু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। দোলের রাতেই পুরো মন্ত্রিসভাকে ইস্তফা দিইয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। তার আগেই বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ঘনিষ্ঠ ১৭ জন বিধায়ক উড়ে গিয়েছেন বিজেপি শাসিত কর্নাটকে। এই অবস্থায় অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কোথায়? সোমবার রাতে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং জানান, সিন্ধিয়াজির সঙ্গে যোগযোগ করা যাচ্ছে না। শোনা গিয়েছে, তাঁর সোয়াইন ফ্লু হয়েছে। তিনি কথা বলতে পারবেন না।
পরে ৭৩ বছরের দিগ্বিজয় বলেন, "মধ্যপ্রদেশে কেউ যদি জনতার রায়কে অমান্য করে, সে উপযুক্ত জবাব পাবে।" পরে তিনি বলেন, "যো সহি কংগ্রেসী হ্যায়... ওহ কংগ্রেস মে রহেগা।"
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এখন দিল্লিতে আছেন বলে জানা যায়। ৪৯ বছর বয়সী সিন্ধিয়ার সঙ্গে কংগ্রেস একটা সমঝোতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সোমবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, তাতে লাভ হয়নি।
বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সোমবার রাতে বলেছিলেন, তাঁরা সরকার ফেলে দিতে আগ্রহী নন। তাঁর কথায়, "আমাদের কিছু করার নেই। এটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমরা এই নিয়ে মন্তব্য করব না।" এর মধ্যে শোনা যায়, বিজেপি তার প্রত্যেক বিধায়ককে মঙ্গলবার ভোপালে আসতে বলেছে।
মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় আসনের সংখ্যা ২৩০। তার মধ্যে কমলনাথ সরকারের পক্ষে আছেন ১২০ জন বিধায়ক। গরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ছিল ১১৬ জন। কমলনাথের বিধায়কের সংখ্যা তার চেয়ে সামান্য বেশি। কংগ্রেসের নিজের বিধায়ক আছেন ১১৪ জন। বিএসপি-র দু'জন, সমাজবাদী পার্টির একজন এবং চার নির্দল বিধায়ক তাদের সমর্থন করছেন। সরকারপক্ষের ১৭ জন বিধায়ক যদি ইস্তফা দেন, তাহলে কমলনাথের পক্ষে থাকা বিধায়কের সংখ্যা হবে ৯৭। তিনি গরিষ্ঠতা হারাবেন।