
শেষ আপডেট: 31 October 2023 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিক বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব। তিনি আশুতোষ কলেজে শিক্ষকতা করতেন। গত জুলাই মাসে তাঁকে সংসদের সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু রেশন দুর্নীতি কাণ্ডের কবর খোঁড়াখুড়ি শুরু হতেই প্রিয়দর্শিনীর সরকারি পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
সেই প্রশ্ন ওঠার কারণও রয়েছে। ২৭ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় তথা বালুকে। আদালতে তিনি অসুস্থ হওয়ার পর বাবার মাথায় জল বাতাস করেছেন প্রিয়দর্শিনীই। তারপর ৩০ অক্টোবর সোমবার সংসদের দফতরে পৌঁছে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিলেন তিনি। একাদশ শ্রেণিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হবে, তা নিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। অনেকের মতে, তার মধ্যে হয়তো এটা বোঝাতে চেয়েছিলেন, ‘অল ইজ ওয়েল’! সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বালু-কন্যা বলেছিলেন, তিনি তদন্তের জন্য প্রস্তুত।
কিন্তু দেখা গেল, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব বিবৃতি জারি করার পর ওই একই বিষয়ে সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। তাতে সংসদের সভাপতির সইও রয়েছে।
একই বিষয়ে সংসদের সচিব ও সভাপতির পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার দৃষ্টান্ত বিশেষ নেই। তাই এই ঘটনায় শিক্ষামহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
গত এক বছরে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে দেখা গিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দফতরের উচ্চ পদে থাকা একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য, প্রাথমিক পর্ষদের চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্য, স্কুল সার্ভিসের উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক শান্তিপ্রসাদ সিনহা, ওই কমিটির চেয়ারম্যান অশোক সাহা প্রমুখ এখন জেল হেফাজতে রয়েছেন।
তার উপর আবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বর্তমান সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের বিরুদ্ধে ইডি বড় অভিযোগ করেছে। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রিয়দর্শিনীর আইডিবিআই ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টে নগদে ৩ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। সেই সঙ্গে একাধিক ভুয়ো কোম্পানির তিনি ডিরেক্টর ছিলেন বলে অভিযোগ। যে কোম্পানিগুলির মাধ্যমে রেশন কেলেঙ্কারির টাকা হাতবদল হয়েছে বলে ইডির দাবি। এই অবস্থায় তাঁকেও মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় এজেন্সি জানিয়েছে।
অনেকের মতে, এই পরিস্থিতিতে সংসদের সচিব পদে প্রিয়দর্শিনীর থাকাটা শোভা পাচ্ছে না। কারণ, শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সাধারণের আস্থা ফেরানোর বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে সরকারের সামনে। তাই উচ্চ পদে পরিচ্ছন্ন শিক্ষাবিদ থাকাই বাঞ্ছনীয়।