
শেষ আপডেট: 30 October 2023 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাকিবুর রহমান ছাড়া আর কোন কোন চালকল মালিক এবং রেশন ডিলারদের সঙ্গে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, সেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করল ইডি। তদন্তকারীরা মনে করছে, দুর্নীতির সূত্র ধরেই তৈরি হয়েছিল এই ঘনিষ্টতা।
সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ জন রেশন ডিলার এবং চালকল মালিকের একটি তালিকা তৈরি করেছেন তদন্তকারীরা। শীঘ্রই ওই তালিকা ধরে শুরু হবে তল্লাশি অভিযান। আবার কিছুজনকে সরাসরি জেরার জন্য ডেকেও পাঠানো হতে পারে।
ইতিমধ্যে চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন সদ্য ধৃত মন্ত্রী। বেসরকারি হাসপাতালের প্রকাশিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভাল। সূত্রের খবর, শীঘ্রই তাঁকে স্থানান্তর করা হবে কমান্ড হাসপাতালে। সেখানেই মন্ত্রীর জেরা পর্ব শুরু হবে বলে ইডি সূত্রের খবর।
ইডির এক আধিকারিক বলেন, “শিক্ষা দুর্নীতির থেকেও গভীরে রয়েছে রেশন দুর্নীতি। অন্তত এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। চাল, গম চুরির এই ব়্যাকেট অনেক বড়। তদন্তের স্বার্থেই দ্রুত মন্ত্রীকে জেরা করা জরুরি।”
রেশন কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করেছে ইডি। কীভাবে রেশনের আটা খোলা বাজারে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের মুনাফা যেত মন্ত্রী এবং তাঁর সাগরেদদের কাছে সেবিষয়ে শুক্রবারই আদালতে বেশ কিছু নথি পেশ করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে উঠে এসেছে একাধিক ভুয়ো সংস্থার নথিও।
রেশন ডিলার ও মিল মালিক ধৃত বাকিবুর রহমানের দুই কর্মীর মোবাইল থেকে দুটি বিস্ফোরক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দু’দফায় মোট ৮০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় ‘এমআইসি’ অর্থাৎ মিনিস্টার ইন চার্জকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাকিবুরের দুই কর্মী জানান, এমআইসি মানে মিনিস্টার-ইন-চার্জ! যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে সেই সময় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। স্বভাবতই, ধৃত মন্ত্রীর পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠবৃত্তকেই জেরা করতে তৎপর গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এই সংক্রান্ত প্রস্তুতিও।