
শেষ আপডেট: 17 December 2020 13:37
গিনেস বুক অফ্ ওয়ার্ল্ড রয়েছে তাঁর নাম। উচ্চতা মাত্র ২ ফুট! সমাজ যখন তাঁর উচ্চতা নিয়ে হাসি মজা করেছে, উপহাস করেছে, কম উচ্চতা হওয়াটা তাঁর খামতি বলে দাগিয়ে দিয়েছে তখনই তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সেই ২ ফুট উচ্চতার ওপর ভর করে আজ তাঁর নাম রয়েছে গিনেস বুকে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রকায়া রমনী হিসেবে। যে উচ্চতাক জন্য একদিন খোরাক হতে হয়েছে জ্যোতিকে, সেই উচ্চতাই তাঁকে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি।
মহারাষ্ট্রের নাগপুরের জ্যোতি কিসানজি আজ সেলেব, সে কথা বলাই যায়। গত কাল তিনি পা রাখলেন ২৭, জীবনের স্ক্র্যাপবুক আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন জ্যোতি।এই ২৭ বছরের দীর্ঘ সময়ে লড়াইটা বেশ কঠিন। প্রথম দিকে প্রচুর অপমান, অবহেলা সহ্য করেও শুধুমাত্র মনের জোর ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে জ্যোতি তাঁর নিজের জীবনের জ্যোতি হয়ে উঠেছেন।
জ্যোতির মা রঞ্জনা জানিয়েছেন যে মেয়ের যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন এই শারীরিক অস্বাভাবিকতা দিকটা তাঁদের চোখে ধরা পড়ে। পাঁচ বছরের শিশুর তুলনায় জ্যোতির বৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য রকমের কম। এর পর তাঁকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায় যে তিনি অ্যাকনড্রপলাসিয়া নামের এক বিশেষ বামনত্ব রোগের শিকার। এই রোগে আক্রান্তদের উচ্চতা একটা নির্দিষ্ট সীমার পরে আর বাড়ে না। জ্যোতির ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হয়নি। তাই ২ ফুটের পরে আর বাড়ে নি জ্যোতির উচ্চতা। রঞ্জনা দেবীর কথার সঙ্গে একমত হয়েছে গিনেস বুকও। অবশ্যই খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে তবেই এই সিদ্ধান্তে আসে গিনেস বুকের কর্তারা। যদিও জ্যোতিকে প্রথম ২০০৯ সালে দেখা যায় ফুজি টিভির একটি অনুষ্ঠানে।
গিনেস বুক অফ্ রেকর্ডের তথ্য থেকে জানা যায় যে তাঁরা জ্যোতির মেডিকেল টেস্ট করেন। তখন জ্যোতির উচ্চতা নির্ণয় করা হয় ১.৯৯ সেমি(২ ফুট) আর সেই সময় তাঁর ওজনও করানো হয়, যাতে দেখা যায় তাঁর ওজন মাত্র ৫.৪ কেজি। জ্যোতির জন্মের পর থেকে তাঁর ওজন বেড়েছে মাত্র চার কেজি। নাগপুরের ওকহার্ট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক তাঁর পরীক্ষা করেন। গিনেস বুক অফ রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী জিডাব্লুআর এর বিচারক রব মল্লয়ও উপস্থিত ছিলেন। ২০১১ সালে জ্যোতি তাঁর ১৮ বছরের জন্মদিনে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই খেতাব অর্জন করেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ডে নাম না থাকলে আজকের এই সমাজে জ্যোতির পরিণতি কী হতে পারত, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়! কিন্তু এই সূত্রে তিনি নানা টিভি শোয়ে সগৌরবে উপস্থিত হয়েছেন, অর্জন করেছেন তারকার খ্যাতি। তিনি মুখ দেখিয়েছেন মিকা সিংয়ের গানের ভিডিওতেও। তাঁকে নিয়ে আলাদা করে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি হয়েছে, যার নাম 'টু ফুট টল টিন'।
ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডেও তাঁকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। জামাকাপড় তো বটেই, পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার বাসনও জ্যোতির জন্য আলাদা করে তৈরি করা হয়। জীবন নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই তাঁর। বরং এই শারীরিক খামতিকেই নিজের শক্তি বানিয়েছেন জ্যোতি। ভিড়ের চেয়ে আলাদা হয়েছেন এবং সম্মানও পেয়েছেন। জিতে নিয়েছেন বহু মানুষের মন।