.webp)
সিবিআই দফতরে জুনিয়র চিকিৎসকরা। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 20 September 2024 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদালতের নির্দেশে গত ১৩ অগস্ট আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের তদন্তভার গ্রহণ করেছিল সিবিআই। তারপরে ৩৮ দিন অতিক্রান্ত! আর কতদিন?
এই প্রশ্ন তুলে দ্রুত তদন্তের নিষ্পত্তি ও দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে পূর্ব ঘোষণামতো স্বাস্থ্যভবন থেকে সিবিআইয়ের কলকাতার কার্যালয় সিজিও কমপ্লেক্সের উদ্দেশে মিছিল শুরু করলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। অন্যদিকে এদিন বিকেলে হাইল্যান্ড পার্ক থেকে শ্যাম বাজার পর্যন্ত রিলে মশাল মিছিলের ডাক দিয়েছে নাগরিক সমাজ।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, আর পাঁচটা খুন বা ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে যেন এই ঘটনাকে গুলিয়ে না ফেলা হয়। মনে রাখতে হবে, গত ৮ অগস্ট গভীর রাতে নিজের কর্মস্থলেই ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয়েছিলেন নির্যাতিতা। এমনকী নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে তথ্য লোপাটের অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যে ওই অভিযোগে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।
অন্যদিকে ধর্ষণ-খুনের অভিযোগে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। পরে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণের পর ধর্ষণ-খুনের অভিযোগে দ্বিতীয় কোনও গ্রেফতার এখনও হয়নি। ময়নাতদনন্তের রিপোর্টে নির্যাতিতার দেহে একাধিক আঘাতের উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রসঙ্গ টেনে নির্যাতিতার মা-বাবা ও আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা বলছেন, সঞ্জয় একা নন, আরও কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। তা না হলে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর একাংশ ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেছিল কেন?
বিচারের দাবিতে টানা ধর্না অবস্থানে বসেছিলে্ন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এমনকী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। ধর্নাস্থলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সোমবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে ডাক্তারদের দাবি মেনে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে কর্মবিরতি তোলার কথা থাকলেও তোলেননি ডাক্তাররা।
বরং প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টাস্ক ফোর্স গঠন , সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাকি বিষয়গুলি পূরণের দাবিতে বুধবার সকালে ফের নবান্নে চিঠি দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই দাবি মেনে বুধবার জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। হাসপাতালের সুরক্ষায় বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে স্বাস্থ্য দফতরের উদ্দেশে একটি বিশেষ নির্দেশিকাও জাারি করা হয়। যাতে আন্দোলনকারীদের বেশিরভাগ দাবি পূরণের কথা বলা হয়।
এরপরই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিলেন আন্দোনকারীরা। সেই মতো শুক্রবার বিকেলে সিবিআই দফতরে অভিযানের মধ্যে দিয়ে আপাতত ধর্না অবস্থানে ইতি টানতে চলেছেন তাঁরা। শনিবার থেকে জরুরি পরিষেবার কাজেও যোগ দেবেন তাঁরা। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরা এও জানিয়েছেন, দ্রুত ন্যায় বিচারের দাবিতে লড়াই জারি থাকবে। নজর থাকবে সিবিআই তদন্তের দিকে। সে কারণেই শুক্রবার বিকেলের এই অভিযান।