
কিঞ্জল নন্দ, দেবাশিস হালদার।
শেষ আপডেট: 13 October 2024 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার দুপুর। ঘড়ির কাঁটার হিসেবে ২১০ ঘণ্টা পার! টানা ৯ দিন ধরে ধর্মতলায় অনশন চালাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসক তনয়া পাঁজা, স্নিগ্ধা হাজরা, অর্ণব মুখোপাধ্যায়, পুলস্ত্য আচার্য এবং সায়ন্তনী ঘোষ হাজরা। ক্রমশ শারীরিক অবনতি হচ্ছে তাঁদের।
শুক্রবার থেকে তাঁদের সঙ্গে অনশনে যোগ দিয়েছেন আলোলিকা ঘোড়ুই এবং পরিচয় পাণ্ডা। আর পাঁচটা দিনের মতো রবিবার সাত সকালেও বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু সাধারণ মানুষ হাজির ধর্না মঞ্চে। সকলেরই কৌতূহল একটাই, এর শেষ কোথায়? এভাবে আরও কতজন ডাক্তারি পড়ুয়া অনশন করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়লে সরকারের টনক নড়বে?
ইতিমধ্যে দু'পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের ডাক দিয়েছেন সমাজের বিদ্বজ্জনেরা। অর্পণা সেন, সুজাতা ভদ্ররা প্রয়োজনে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতেও রাজি আছেন বলে খবর। এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীরা কী ভাবছেন?
আন্দোলনের অন্যতম মুখ, জুনিয়র চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বললেন, "সরকার যদি ভেবে থাকে, আমাদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেবে তাহলে ভুল করছে। টানা আন্দোলন করতে করতে শারীরিকভাবে আমরা হয়তো কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছি, তবে যেভাবে মানুষের সাড়া পাচ্ছি তাতে মনোবলের দিক থেকে আমরা অনেকটাই শক্তিশালী। সহপাঠীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত ময়দান থেকে ছেড়ে যাব না।"
আন্দোলনের আর এক মুখ দেবাশিস হালদার বলছিলেন, "অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন, আর কবে সরকার আমাদের কথা শুনবে? আমরা বলছি, নিজেদের দাবি পূরণে প্রয়োজনে আমরা একে একে সকলে আমরণ অনশনে যোগ দেব।"
রবিবাররই এসএসকেএমে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের লেডিজ হস্টেলের বাথরুমের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি। তাকে অশালীন অবস্থায় দেখতে পান ডাক্তারি ছাত্রীরা।
এক জুনিয়র চিকিৎসক বলেন, ‘‘সরকারের পদস্থ কর্তা বলছেন, হাসপাতালে ৯০ শতাংশ নিরাপত্তার কাজ শেষ। অথচ বাস্তবে কী দেখছেন, দুষ্কৃতীরা নির্বিচারে তাণ্ডব চালিয়ে পালিয়ে গেল! চিকিৎসা করাতে এসে দুষ্কৃতী মারে মৃত্যুর মুখে পৌঁছে গেলেন রোগীর পরিজন। এরপরও কি ভরসা করা যায়?’’