
শেষ আপডেট: 10 August 2023 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের স্কুলে 'ভুয়ো' নথি দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগের তদন্তে ফের একবার সিআইডিকে ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Justice Biswajit Basu)। এই ঘটনার তদন্তে সিআইডির (CID Probe) ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার এই মামলার তদন্তে সিআইডিকে তুলোধনা করলেন বিচারপতি। বলেন, 'শুধু কাগজে-কলমে তদন্ত করবেন না। সঠিক তদন্ত করুন।'
মুর্শিদাবাদের গোথা এয়ার স্কুলে চাকরি পেয়েছিলেন অনিমেষ তিওয়ারি। অভিযোগ ছিল, সুপারিশপত্র মেমো নকল করে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। অনিমেষের বাবা আবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বাবাই ছেলেকে 'ভুয়ো' নথি করিয়ে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের হয়। সেই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি উঠলেও বিচারপতি বসু সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
ডিআইজি সিআইডির নেতৃত্বে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট বিচারপতি বসু। এদিন এজলাসে সিআইডির উদ্দেশে তিনি বলেন, 'তদন্তের জন্য আপনাদের যথেষ্ট সময় দিয়েছি। আপনারা কি আমার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত করতে চাইছেন?'
এরপরই বিচারপতি আরও বলেন, 'নিয়োগে এমন বেআইনি ঘটনা ঘটছে, তা কি রাজ্য জানে না? রাজ্য কি কাউকে আড়াল করতে চাইছে?' বুধবারই বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে বৃহস্পতিবার ডিআইজি সিআইডি সহ তদন্তকারী দলের সদস্যদের আদালতে উপস্থিত হতে বলেন। কিন্তু এদিন আদালতে হাজির ছিলেন না ডিআইজি সিআইডি। তদন্তকারী দলের সাত জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চারজন।
হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তে নেমে সিআইডি ৩৬ জন শিক্ষকের নাম পায়। অভিযোগ, যাঁদের মধ্যে ১৮ জন শিক্ষক ভুয়ো নথি ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন। এমনকী মেধা তালিকা পাল্টানো হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ অগস্ট। সেদিন রাজ্যকে হলফনামা দিতে বলেছেন বিচারপতি।
আরও পড়ুন: মাকে দু'বার ধর্ষণ মদ্যপ ছেলের! চার বছর পর যাবজ্জীবনের সাজা শোনাল আদালত