
শেষ আপডেট: 17 August 2023 10:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের স্কুলে (Murshidabad School Case) 'ভুয়ো' নথি দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Justice Biswajit Basu)। কিন্তু সিআইডি তদন্তে (CID Probe) খুশি নন তিনি। এই মামলার শুনানিতে বারবার তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমনকী আদালতে ডিআইজি-সিআইডিকে তলবও করেছিলেন। বৃহস্পতিবার ডিআইজি-সিআইডি বিচারপতি বসুর এজলাসে উপস্থিত হয়ে ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্ট ঘিরেই একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি।
মুর্শিদাবাদের গোথা এয়ার স্কুলে চাকরি পেয়েছিলেন অনিমেষ তিওয়ারি। অভিযোগ ছিল, সুপারিশপত্র মেমো নকল করে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। অনিমেষের বাবা আবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বাবাই ছেলেকে 'ভুয়ো' নথি করিয়ে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় ডিআইজি-সিআইডির নেতৃত্বে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত (Calcutta High Court)। কিন্তু তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট বিচারপতি বসু।
এদিনের রিপোর্ট ধরে এই মামলায় সিআইডি এখনও পর্যন্ত ৬টি রিপোর্ট পেশ করেছে। বিচারপতি বসু বলেন, '৬টি রিপোর্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে না এই দুর্নীতি কীভাবে হয়েছিল। কীভাবে পরিকল্পনা করে দুর্নীতি সংগঠিত করা হয়েছিল, তার কোনও উল্লেখ নেই রিপোর্টে।'
বিচারপতি বলেন, 'আদালত সি আইডির ওপর অগাধ আস্থা রেখেছিল, কিন্তু তারপর এই রিপোর্ট? আর কোনও অনিমেষ তিওয়ারি রয়েছে কিনা আমি সেটা দেখতে চাই। অনিমেষ যে কলেজের বিএড সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন, আদৌ সেই কলেজে বিএড করেছিলেন কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিন আদালতে সিআইডির তরফে নতুন করে এফআইআর দায়ের করতে চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত এদিন একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করার নির্দেশ দেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিব , মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সচিব এবং শিক্ষা দফতরের নিয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠন করতে বললেন বিচারপতি। তিনি জানান, 'এই কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে অনিয়ম, বেআইনি কাজ এবং দুর্নীতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।' সিআইডিকে নতুন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন বিচারপতি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এসএসসি গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের