
শেষ আপডেট: 1 December 2023 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নয়া মোড়। এই মামলায় যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছিল সিবিআই এবং ইডি। শুক্রবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। আর এই রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা সকলের সামনে আনা সম্ভব নয়। শুক্রবার মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ ছিল কলকাতা হাইকোর্টের। একইসঙ্গে এই মামলা যাতে সারদা মামলার মতো পরিণতি না পায় তা নিয়েও বার্তা দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত করছে সিবিআই। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর সংশ্লিষ্ট মামলায় ইডি-সিবিআইয়ের সমন্বয়ের অভাব নিয়ে শুক্রবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সিবিআইকে ইডির সঙ্গে কথা বলে চার্জশিট তৈরি করতে বলেন তিনি। সঙ্গে জানান, প্রাথমিক মামলার পরিণতিও অতীতের সারদা মামলার মতো হয়ে যাক, তা তিনি চান না। তদন্তকারী সংস্থাকেই এবিষয়ে নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় মামলা শুরুর জন্যে সিট প্রধান অশ্বিন সেনভিকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ইডির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সিবিআইকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।
বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রধান অশ্বিন সেনভি এদিন জানান, শীঘ্রই দ্বিতীয় চার্জশিট তৈরি করা হবে। তখনই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ইডির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইডির সঙ্গে সিবিআই খুব বেশি যোগাযোগ রাখেনি। সেকারণেই চার্জশিটে প্রাথমিক মামলার সব অভিযুক্তের নাম নেই। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে দ্রুত ইডির সঙ্গে সিবিআইকে যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ, ট্রায়াল নিয়ে সিবিআই কী পদক্ষেপ করেছে তা আদালতকে আগামী শুনানিতে জানাতে হবে। একইসঙ্গে 'এতবড় নিয়োগ দুর্নীতি'-র অভিযোগ কেউ জানত না এমন তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''আমি অবাক, এত বড় দুর্নীতির কথা কেউ জানত না বলা হচ্ছে! পুলিশ, আইবি ফুল বা হাফ রাজনীতির নেতারা জানত না এটা হতে পারে না।'' আগামী ২১ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।