
শেষ আপডেট: 5 January 2024 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালিতে তৃ়ণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে বেধড়ক মারধর খেয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসাররা। তাঁদের কারও মাথা ফেটেছে, কারও গুরুতর চোট লেগেছে। সেই সঙ্গে তাঁদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালের এই ঘটনা নিয়ে এবার কড়া পর্যবেক্ষণ জানালেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন এজলাসে বসেই বিচারপতি সন্দেশখালির ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, তদন্তকারীরা যেভাবে মারধর খেয়েছেন তাঁদের যেরকম ভাবে মারা হয়েছে, তাতে পরিষ্কার যে পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি বুঝে পাচ্ছি না, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস কেন তা ঘোষণা করছেন না?
আদালতের নির্দেশেই রেশন দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শুধু রেশন দুর্নীতি নয়, শিক্ষক ও পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রের তিনটি এজেন্সি এখন বাংলায় তদন্ত চালাচ্ছে। তারা হল, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি, সিবিআই এবং আয়কর বিভাগ। অনেকের মতে, কোন ঘটনার তদন্ত তাঁরা করছেন তা প্রাসঙ্গিক নয়, বড় কথা হল তদন্তে গিয়ে তাঁরা বিপন্ন হচ্ছেন। আরও বড় কথা হল, তাঁদের সঙ্গে আধা সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানরা থাকছেন। তার পরও তদন্তকারী অফিসারদের ঘিরে ধরে মারা হয়েছে। ফলে শুক্রবারের ঘটনা আদালতকেও যে চিন্তায় ফেলে দিতে পারে সেই সম্ভাবনার দেওয়াল লিখন পরিষ্কারই ছিল।
হয়েছেও তাই। শুক্রবার সকালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত সন্দেশখালির ঘটনা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে জানান। তারপরই কড়া পর্যবেক্ষণ জানান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সন্দেশখালির ঘটনায় মারধর খাওয়া ইডির তদন্তকারী অফিসাররা কেমন রয়েছেন, তাও জানতে চান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ওই এলাকার প্রশাসন কী করছিল? ঘটনার পর পুলিশ কি ওখানে গিয়েছিল, নাকি যায়নি?” ওই এলাকা কোন লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে তাও আইনজীবীদের কাছে জানতে চান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
বাংলায় শাসক দল তৃণমূলের অবশ্য বক্তব্য, এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিই দায়ী। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এদিন সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেন, ইডির উপর হামলা উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের মারধর করাও বাঞ্ছনীয় নয়। তবে এ ঘটনার কার্যকারণ বোঝা দরকার। রোজ সকালে নিয়ম করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির একদল অফিসার বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন সংবাদমাধ্যমের একাংশকে। তাঁরা এলাকায় গিয়ে প্ররোচনা দিচ্ছেন। এদিনও তাই হয়েছিল। সেই কারণেই জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের।