
শেষ আপডেট: 3 March 2024 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ঘোষণা করেছেন যে মঙ্গলবার বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেবেন।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চাইছেন তিনি?
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেব তা এখনই বলছি না। তবে হ্যাঁ তৃণমূল কংগ্রেসে অবশ্যই যোগ দেব না। সে প্রশ্নও ওঠে না”। বাংলায় শাসক দলের বিরুদ্ধে এদিনও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “ইতিহাসে আমরা মৌর্য্য সাম্রাজ্য দেখেছি। এখন আমরা দেখছি চৌর্য্য সাম্রাজ্য” সেই সঙ্গে বলেন, রাজ্যে তিনটি বিরোধী দল রয়েছে। সিপিএম রয়েছে, কংগ্রেস রয়েছে, বিজেপিও রয়েছে। তা ছাড়া ছোট অনেক রাজনৈতিক দলও রয়েছে। ভেবে দেখব কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারি।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে অবশ্য মনে করছেন, কোনও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা হয়ে গিয়েছে। কোন আসন থেকে তিনি প্রার্থী হবেন সেই কথাও হয়ে গেছে। তার পরই নিশ্চয়ই তিনি ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ সবটাই নিশ্চিত করে নিশ্চয়ই মাঠে নামছেন।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য বলেন,“আমি নিজে থেকে কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কথা বললে অনেকেই ভাবতে পারে ভোটের টিকিট চাইছি। তবে কেউ যদি আমাকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেয় ভেবে দেখতে পারি”।
এ কথা শুনেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এদিন বলেন, “আমি ওনাকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। উনি একটি প্রতিবাদী চরিত্র। কংগ্রেসের ইতিহাসও দেশের ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় কংগ্রেসে এলে বাংলার রাজনীতির ভাল হবে”।
বস্তুত বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এর আগেও খোলাখুলি প্রস্তাব দিয়েছিলেন অধীর। তিনি বলেছিলেন, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় রাজনীতিতে আসুন। উনি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হোন। আমি ওনাকে ভোট দেব।
তবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় অনেকটা বাম ঘেঁষা বলে কেউ কেউ মনে করতেন। বিশেষ করে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। বইমেলায় তাঁকে সিপিএমের স্টলে যেতে দেখা গিয়েছে। তবে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এদিন বলেন, কেউ বামপন্থী আন্দোলনে সামিল হতে চাইলে তাঁকে স্বাগত। তবে ওনার সঙ্গে আমার দলের কোনও কথা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
আবার এ কথাও ঠিক যে রাজ্য বিজেপির কয়েকজন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ রাখেন। ফলে তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কিনা সেই কৌতূহলও জিইয়ে থাকল। সম্ভবত মঙ্গলবারের মধ্যে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।