দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনিও মাস চারেক আগে নেপালে একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। ভেঙে গিয়েছিল পা, বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে রিহ্যাব করছিলেন চারু শর্মা।
গত শনিবার আইপিএলের নিলাম পর্ব সঞ্চালনা করে তিনি সকলের নজর কেড়ে নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের হিউ এডমিডিস আচমকা সঞ্চালনা করতে করতে সজোরে ডায়াস ভেঙে পড়ে যান। সবাই ভেবেছিল ওই প্রবীন বিদেশী সঞ্চালকের বুঝি হৃদরোগ হয়েছে। কিন্তু পরে দেখা যায়, তিনি দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ট্রমায় আক্রান্ত হয়েছেন।
মাথায় হাত পড়ে বোর্ড কর্তাদের। সেইসময় অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে সচিব জয় শাহ, এমনকি ছিলেন আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেলও। তিনিই ফোন করে সেইসময় ডেকে নেন চারুকে। সকলের রক্ষাকর্তা তথা মধুসূদন দাদা হিসেবে অবতির্ণ হন।
চারুর বাড়ি বেঙ্গালুরুতে নিলাম অনুষ্ঠানের ঠিক পাশেই। দশ মিনিটের হাঁটা পথ। চারুর মতো সঞ্চালককে পাওয়া যাবে, সেটিও বোর্ড কর্তাদের ভাগ্য ভাল ছিল বলেই সম্ভব হয়েছে। কারণ শনি ও রবিবার চারু দুপুরের দিকে বাড়ি থাকেন না, তিনি গলফ খেলতে চলে যান। এদিন তিনি যাননি, কারণ তাঁর চোটের স্থানে ফিজিওথেরাপি করার কথা ছিল। লাঞ্চের পরেই তিনি সেটি করতেন।
ব্রিজেশের ফোন পেয়ে চারু আধঘন্টার মধ্যে তৈরি হয়ে নিলাম অনুষ্ঠানে চলে আসেন। তিনি প্রথমে একটু ভয়ে ছিলেন, কিন্তু পুরনো মুখদের দেখে তিনি আশ্বস্ত হন। প্রেসিডেন্ট সৌরভও সাহস দেন চারুকে, বলেন, আপনি মাস্টারপিস, আপনার এই সমস্যা হবে কেন! ব্রিজেশও ভরসা দেন নামী সঞ্চালককে। যা জানা গিয়েছে, দু’দিন মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আয় করেছেন চারু।
নিলাম শুরু করতে যাওয়ার আগে আবারও সমস্যায় পড়েন চারু। তিনি খেয়াল করেন নিজের ইয়ারপিস সঙ্গে করে আনতে ভুলে গিয়েছেন। অন্যের ইয়ারপিস দিয়ে কাজ চালাতে পারতেন, কিন্তু নিজের যন্ত্রের সঙ্গে একটা সখ্য রয়েছে বলেই বাড়ি থেকে সেটি আনান। চারু অবশ্য ভয়ে ছিলেন, তিনি যেহেতু জৈব বলয়ে ছিলেন না, সেই কারণে সঞ্চালনার অনুমতি পাবেন কিনা। কিন্তু তাঁর দুটি টিকা ও বুস্টার ডোজ নেওয়া রয়েছে বলেই সমস্যা হয়নি।