
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ
শেষ আপডেট: 17 January 2025 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুর মেডিক্য়ালে প্রসূতি মৃত্য়ুর ঘটনায় ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড ও এফআইআর দায়েরের প্রতিবাদে, পূর্ণ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হল। জানা যাচ্ছে আজ বিকেলে অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পরই পরিবর্তী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হবে।
এখন হাসপাতালে চালু রয়েছে জরুরি পরিষেবা এবং ওপিডি। এই আবহে মেদিনীপুর মেডিক্যালে গিয়ে পৌঁছেছে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট ও সিনিয়র চিকিৎসকদের সংগঠন।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় সাসপেন্ড হওয়া ১২ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতিতে মৃত্যুর ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। যার নেপথ্যে চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
তাঁদের পর্যবেক্ষণ আরজি করের ঘটনার পর থেকে যেভাবে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে, সেই মরাল ভেঙে দিতেই ইচ্ছে করে সরকার ডাক্তারদের ওপর এহেন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অথচ বিষ স্যালাইন নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্যই করছে না রাজ্য। আর ঠিক সেই কারণেই আজকে থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা করেছিল জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন।
বস্তুত, বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব রিপোর্ট পড়ে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন, সার্জারির সময়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের তরফে যে যে বিষয় মেনে চলার কথা ছিল, তার অনেকটাই মানা হয়নি বলে জানা গেছে। মুখ্যসচিব জানান, দুটি রিপোর্টেই মেদিনীপুরে চিকিৎসকদের গাফিলতির তথ্য উঠে এসেছে। সেদিন আরএমও এবং কল ডিউটিতে যে ডাক্তাররা ছিলেন তাঁরা ওটিতে দেখতে যাননি। চিকিৎসক সৌমেন দাসকে ডাকা হলেও তিনি একবার দেখেই চলে গিয়েছিলেন। জুনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে অপারেশন করা হয়েছিলয অ্যানাস্থেসিয়া সিনিয়র ডাক্তারদের দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। সেটাও পিজিটিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ছিল। এমনকী রোগীর বাড়ির লোককে দিয়ে জোর করে মুচলেকাও লেখানো হয়েছিল।
সেই রেশ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ' যাঁরা সেদিন দায়িত্বে ছিলেন, যাঁদের জন্য এই কাণ্ড হয়েছে, তাঁদের রাখা যাবে না। তাঁদের হাতে অন্য রোগীরও ক্ষতি হতে পারে। সেই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।' মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের জবাব চাওয়ার অধিকার আছে। যেখানে অন্যায় হয়, সেখানে কথা উঠবেই। আমরা যেমন চিকিৎসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তেমনি মানুষের দিকটাও দেখতে হবে। তাই তদন্তের সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'