দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় ক্ষমতা দখলের জন্য কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি (BJP)। কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা বহুবার যাতায়াত করেছিলেন। আওয়াজ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ভোটের রেজাল্টে দেখা গেছে গো-হারা হেরেছেন দিলীপ ঘোষরা। আর তার পর কয়েকমাস মুখে একেবারে কুলুপ এঁটে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহরা। তবে নীরবতা ভাঙল এবার।
রবিবার বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। তাতে উপস্থিত নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহ সকলেই। সেখানেই বাংলা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে সাফল্যের নজির তৈরি করবে বিজেপি, জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে এক হাত নিয়েছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকেও।
কী বলেছেন নাড্ডা? কর্মসমিতির বৈঠকে তিনি বলেছেন, বিজেপি বাংলায় যেভাবে বেড়ে উঠেছে, যত কম সময়ে বাংলায় ডালপালা বিস্তার করেছে পদ্মফুল, তা ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে বিরল। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল বরাবর বিপক্ষের রাজনৈতিক দলের উপর আঘাত হানে, তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করে। তৃণমূলের গুণ্ডাদের হাতে বিজেপি কর্মীরা প্রাণ হারিয়েছেন। তবু ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় বাংলার মানুষের পাশে আছে, জানিয়েছেন নাড্ডা। বলেছেন, বিজেপি তৃণমূলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।
বাংলায় টিকাকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জে পি নাড্ডা। বলেছেন, কেন্দ্রের কাছ থেকে টিকা নিয়ে সকলকে সমানভাবে দিচ্ছে না তৃণমূল সরকার। কেবল দলের সমর্থকরাই ভ্যাকসিন সময়মতো পাচ্ছেন। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি।
ভোটের রেজাল্টের পর বাংলায় বিজেপির অবস্থা শোচনীয়। একে একে নেতারা দল ছেড়েছেন, যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। এই পরিস্থিতিতে গোষ্ঠী কোন্দলের ছবিও বিরল নয়। কর্মী সমর্থকদের মনোবল যখন তলানিতে ঠেকেছে, তখন নাড্ডার বার্তা নতুন করে উজ্জীবিত করবে বাংলা বিজপিকে, তেমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের একাংশ।