দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোড়াবাগানে নৃশংস ভাবে নাবালিকাকে খুন করার ঘটনায় অভিযুক্ত দারোয়ানকে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। এই খুনের ঘটনার দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম রাম কুমার ওরফে লম্বু। শুরু থেকেই তার বয়ানে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ছিল। তার আচরণেও সন্দেহ হয়েছিল পুলিশের। পরে জেরার সময় নাকি অপরাধের কথা স্বীকার করেছে সে।
তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার পরে বাড়ির সকলকে যখন জেরা করা হচ্ছিল তখন থেকেই সন্দেহ গিয়ে পড়ে রাম কুমারের ওপরে। প্রতিবারই নিজের বয়ান পাল্টে ফেলছিল সে। আজ, শুক্রবার জিজ্ঞাসবাদের জন্য আটক করা হয় তাকে। জানা গেছে, পুলিশি জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করেছে রাম কুমার ওরফে লম্বু। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ এবি, ৩০২ ও পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
লম্বুকে জেরায় জানা যায়, ঘটনার দিন বন্ধুদের সঙ্গে বিরিয়ানি এবং দেশি মদ খেয়েছিল সে৷ যদিও প্রথমে অভিযোগের কথা স্বীকার করেনি ওই দারোয়ান৷ পরে সে জানায়, বুধবার রাতে নিজের ঘরেই মোবাইলে পর্ন দেখছিল সে৷ সেই সময় খেলতে খেলতে ওই বাচ্চাটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে৷ তখনই তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ঘরে ডেকে, মাদক মেশানো বিরিয়ানি খাইয়ে তাকে অচেতন করে প্রথমে যৌন নির্যাতন চালায় অভিযুক্ত৷ তার পরে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে সে৷ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ছুরি দিয়ে গলাও কেটে দেয়৷ এর পর একটু রাতের দিকে শিশুকন্যার দেহ ছাদের সিঁড়ির কাছে ফেলে দেয় লম্বু৷ এর পর নিজের ঘরে এসে ফের বিরিয়ানি এবং মদ খায় সে৷ তার পর নিয়ম মতো বাড়ির জল তোলার পাম্প চালিয়ে রাস্তায় ঘুরতেও বেরিয়ে সে৷ আবার ভোরের দিকে এসে নিজের ঘরে ঘুমিয়েও পড়ে লম্বু।
বৃহস্পতিবার ৯ বছরের এক নাবালিকার গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয় জোড়াবাগানে। বাচ্চাটি দিন তিনেক আগে শোভাবাজার থেকে এসেছিল, মামারবাড়িতে। বুধবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পরে গতকাল সকালে মামারবাড়ির পাশেই একটি পরিত্যক্ত বহুতলের ছাদের সিঁড়িতে তাকে দেখতে পান এক পরিচারিকা। তাঁর চিৎকার শুনেই সকলে ছুটে যান। দেখা যায়, নিখোঁজ বালিকা ওভাবে পড়ে রয়েছে।
তদন্তকারীরা বলেছেন, মেয়েটির উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বীভৎসতার প্রমাণ হাতে পেয়ে শিউরে উঠেছেন তাঁরা। আততায়ীর মারধরে ভেঙে যায় বাচ্চা মেয়েটির চারটি দাঁত। মাথার পিছন থেকে টেনে উপড়ে তুলে ফেলা হয় চুল। এর পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। শেষে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয় গলা। প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলে। ময়নাতদন্তের পরে শিশুটির পাকস্থলিতে বিরিয়ানি জাতীয় খাবার এবং চিপসও পাওয়া যায়৷ এতেই ওই দারোয়ানের উপরে পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়৷
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত লম্বুর মোবাইলে প্রচুর পর্ন ভিডিও মিলেছে, তার মধ্যে অধিকাংশই শিশুদের নিয়ে! চরম মানসিক বিকৃতি ও অপরাধপ্রবণতা একসঙ্গে মিলে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে লম্বু। এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে দাবি করেছে, লম্বুকে তাঁদের হাতে তুলে দিতে হবে। ক্ষোভের রেশ মিটছেই না তাঁদের।