জোড়াবাগান-কাণ্ডে ধৃত আরও এক! মদ-বিরিয়ানি খেয়ে, শিশুকন্যাটিকে ধর্ষণে দারোয়ানের সঙ্গ দিয়েছিল সেও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোড়াবাগানে ৯ বছরের মেয়েটিকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুন করার ঘটনায় আরও এক জন ধরা পড়ল পুলিশের জালে। বিকৃতকাম দারোয়ান রামকুমার ওরফে লম্বুর সঙ্গে সেদিন ছিল রণবীর তাঁতি ওরফে রঘুবীর নামের এক যুবক। জেরায় এমনটাই জানিয়েছে অভিযুক্ত দ
শেষ আপডেট: 8 February 2021 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোড়াবাগানে ৯ বছরের মেয়েটিকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুন করার ঘটনায় আরও এক জন ধরা পড়ল পুলিশের জালে। বিকৃতকাম দারোয়ান রামকুমার ওরফে লম্বুর সঙ্গে সেদিন ছিল রণবীর তাঁতি ওরফে রঘুবীর নামের এক যুবক। জেরায় এমনটাই জানিয়েছে অভিযুক্ত দারোয়ান।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশি হেফাজতে রেখে জেরা চলছে দারোয়ানকে। জানা গেছে, লম্বু বিরিয়ানির লোভ দেখিয়ে ৯ বছরের শিশুকন্যাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে যায় সে। সেই সময়ে ঘরে ছিল রণবীরও। এর পর তারা মদ ও বিরিয়ানি খায়। চাইল্ড-পর্ন দেখে। তার পরে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করে দুজনেই। তার দাঁত, চুল উপড়ে আসে। এর পরই তাকে খুন করা হয় শ্বাসরোধ করে। কাটা হয় গলার নলিও। রণবীরও খুন করেছিল কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয় কেউ।
তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার পরে বাড়ির সকলকে যখন জেরা করা হচ্ছিল তখন থেকেই সন্দেহ গিয়ে পড়ে দারোয়ান রাম কুমারের ওপরে। প্রতিবারই নিজের বয়ান পাল্টে ফেলছিল সে। পরে পুলিশি জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করে সে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ এবি, ৩০২ ও পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আপাতত ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতে আছে সে।
লম্বুকে জেরায় জানা যায়, ঘটনার দিন রঘুবীরের সঙ্গে বিরিয়ানি এবং দেশি মদ খেয়েছিল সে৷ যদিও প্রথমে অভিযোগের কথা স্বীকার করেনি ওই দারোয়ান৷ পরে সে জানায়, বুধবার রাতে নিজের ঘরেই মোবাইলে পর্ন দেখছিল সে৷ সেই সময় খেলতে খেলতে ওই বাচ্চাটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে৷ তখনই তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ঘরে ডেকে, মাদক মেশানো বিরিয়ানি খাইয়ে তাকে অচেতন করে প্রথমে যৌন নির্যাতন চালায় দুই অভিযুক্ত৷ তার পরে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে সে৷ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ছুরি দিয়ে গলাও কেটে দেয়৷ এর পর একটু রাতের দিকে শিশুকন্যার দেহ ছাদের সিঁড়ির কাছে ফেলে দেয় লম্বু৷ এর পর নিজের ঘরে এসে ফের বিরিয়ানি এবং মদ খায় সে৷ তার পর নিয়ম মতো বাড়ির জল তোলার পাম্প চালিয়ে রাস্তায় ঘুরতেও বেরিয়ে সে৷ আবার ভোরের দিকে এসে নিজের ঘরে ঘুমিয়েও পড়ে লম্বু।
গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ৯ বছরের এক নাবালিকার গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয় জোড়াবাগানে। বাচ্চাটি জন্মদিন উপলক্ষে দিন তিনেক আগে শোভাবাজার থেকে এসেছিল, মামারবাড়িতে। বুধবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পরে গতকাল সকালে মামারবাড়ির পাশেই একটি পরিত্যক্ত বহুতলের ছাদের সিঁড়িতে তাকে দেখতে পান এক পরিচারিকা। তাঁর চিৎকার শুনেই সকলে ছুটে যান। দেখা যায়, নিখোঁজ বালিকা ওভাবে পড়ে রয়েছে।
তদন্তকারীরা বলেছেন, মেয়েটির উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বীভৎসতার প্রমাণ হাতে পেয়ে শিউরে উঠেছেন তাঁরা। আততায়ীর মারধরে ভেঙে যায় বাচ্চা মেয়েটির চারটি দাঁত। মাথার পিছন থেকে টেনে উপড়ে তুলে ফেলা হয় চুল। এর পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। শেষে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয় গলা। প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলে। ময়নাতদন্তের পরে শিশুটির পাকস্থলিতে বিরিয়ানি জাতীয় খাবার এবং চিপসও পাওয়া যায়৷ এতেই ওই দারোয়ানের উপরে পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়৷
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত লম্বুর মোবাইলে প্রচুর পর্ন ভিডিও মিলেছে, তার মধ্যে অধিকাংশই শিশুদের নিয়ে! চরম মানসিক বিকৃতি ও অপরাধপ্রবণতা একসঙ্গে মিলে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে লম্বু, সঙ্গ দিয়েছে রঘুবীর। ঝাড়খণ্ডে বাড়ি হলেও কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকে রঘুবীর নামের এই যুবক। একটি মোবাইলের দোকানে কাজ করে সে। মৃত শিশুটির মামাবাড়িতেই ভাড়া থাকত সে।