দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাদের সংস্থার তরফে উৎপাদিত ট্যালকম পাউডারে কার্সিনোজেনিক পদার্থ রয়েছে, এই অভিযোগে জনসন অ্যান্ড জনসন সংস্থাকে ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল আমেরিকার মিসৌরি আদালত। অভিযোগ, এই পাউডার ব্যবহার করলে ওভারিতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
এ মামলা আজকের নয়। বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। উপভোক্তাদের একের পর এক অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণ মিলিয়ে জনসনের বিরুদ্ধে বড়সড় ক্ষতিপূরণের মামলা রুজু হয়েছে। ২০১৮ সালে ২২ জন ক্ষতিপূরণও পেয়েছে। এখনও চলছে সেই মামলা। এবার নতুন নির্দেশে জনসনকে জানানো হল, নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাদের। এর কারণ, তাদের প্রোডাক্টে ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস রয়েছে জেনেও তারা সেটা বিক্রি করে গিয়েছে গ্রাহকদের কাছে।
মঙ্গলবার আদালতের রায় জানিয়েছে, "যেহেতু অভিযুক্ত সংস্থাটি অত্যন্ত বড়, কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা করে তারা, তাই আমাদের বিশ্বাস, তাদের প্রোডাক্টে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের ক্ষতিপূরণের অর্থের অঙ্কও অনেকটা বড় হওয়া উচিত। যদিও উপভোক্তাদের যে ক্ষতি হয়ে গেছে, যে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা এবং ধকল গেছে, অর্থ দিয়ে সে ক্ষতি পূরণ করা যায় না।"
জনসন অ্যান্ড জনসন সংস্থার এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই রায় তাঁরা মেনে নিচ্ছেন না, মিসৌরির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাবে তাঁদের সংস্থা।
গত কয়েক বছর ধরে সারা আমেরিকায় জনসন অ্যান্ড জনসন সংস্থার বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মামলা রুজু হয়েছে। তাদের ট্যালকম পাউডারে ক্ষতিকারক অ্যাসবেস্টস থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে, এটা বারবার করে বলার পরেও তা শোনেনি জনসন।
গত বছরেই আমেরিকার এক মহিলা অভিযোগ তুলেছিলেন এই বেবি পাউডার থেকেই মেসোথ্যালমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এর পরেই ক্যালিফোর্নিয়ার সুপিরিয়ার কোর্ট নির্দেশ দেয়, ওই মহিলাকে ভারতীয় টাকায় প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সংস্থাকে।
শুধুমাত্র ক্যালিফোর্নিয়াতেই ১৩০০০-এরও বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে। গোটা বিশ্বে প্রায় ১২ হাজার মামলাকারী অভিযোগ জানিয়েছেন এই সংস্থার বিরুদ্ধে৷ অভিযোগ আরও ওঠে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থা জানত, তাদের বেবি পাউডারে মিশে রয়েছে অ্যাসবেস্টাস। অথচ সেই তথ্য গোপন করে বাজারে ঢালাও বিক্রি হয়েছে তাদের প্রোডাক্ট।
ব্লুমবার্গের বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, সংস্থার সমস্ত প্রোডাক্টের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি জেনেও জনসন অ্যান্ড জনসন কেন তাদের প্রোডাক্টের বিক্রি বন্ধ করেনি, সেই বিষয়ে তাদের বিশদে জবাবদিহি করতে হবে।
মার্কিন সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একাধিক বার পরীক্ষা করা হয় জনসনের ওই পাউডার৷ প্রতিবারই পরীক্ষার পরে তাতে মেলে বিষাক্ত খনিজ অ্যাসবেস্টস৷ বেশ কিছু ক্ষেত্রে মামলায় হেরে গিয়ে মামলাকারীদের মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতেও বাধ্য হয় জনসন৷ এমনকি জনসাধারণকে সতর্ক করার বদলে, জনসনের শীর্ষ কর্তা থেকে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, আইনজীবী সকলেই এই সত্যিটাকে সুকৌশলে দিনের পর দিন চাপা দিয়ে এসেছেন।
কিন্তু পরিস্থিতি আদৌ বদলায়নি। বিক্রি বন্ধ হয়নি পাউডারের। গত মাসে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, আমেরিকা ও কানাডায় তারা পাউডার উৎপাদন বন্ধ করেছে তাদের পাউডার নিয়ে "একটানা আইনি জটিলতার" দরুণ। বাকি সব জায়গায় তাদেক উৎপাদন ও বিক্রি অপরিবর্তিনীয় থাকবে।
এবার ফের ধাক্কা খেল বড়সড়। কিন্তু দফায় দফায় ক্ষতিপূরণই কি সব? ক্ষতির উৎস কি কখনওই বন্ধ হবে না পাকাপাকি ভাবে? প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীরা।