দ্য ওয়াল ব্যুরো : ওষুধের নাম স্প্র্যাভাটো। তা নাকে স্প্রে করতে হয়। তাহলে আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তি বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠেন। এই স্প্রে তৈরি করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানি। গত কয়েক মাস ধরে করোনা অতিমহামারীর ফলে আমেরিকায় বেড়েছে ডিপ্রেসান। তা থেকেই আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠছেন অনেকে। তাঁদের সুস্থ জীবনে ফেরাতে সাহায্য করছে জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির ন্যাজাল স্প্রে।
সংস্থার নিউরোসায়েন্সেস মেডিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল ক্র্যামার বলেন, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশন আমাদের কোম্পানির ন্যাজাল স্প্রে অনুমোদন করেছে। তা দ্রুত আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির ওপরে কাজ করে। আমেরিকার লোকসংখ্যার ১১ থেকে ১২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ এখন ডিপ্রেশনে ভুগছেন।
স্প্র্যাভাটো ন্যাজাল স্প্রে এখনও পর্যন্ত ৬ হাজার মানুষ ব্যবহার করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই গভীর ডিপ্রেসনে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, তাঁদের বিষণ্ণতা রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়।
জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, অন্যান্য অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট ড্রাগ কাজ শুরু করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেয়। ক্র্যামার বলেচ্ছেন, যাঁরা তাঁদের কোম্পানির ন্যাজাল স্প্রে ব্যবহার করেন, তাঁদের বিষণ্ণতা কমে খুব দ্রুত। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্রেশন রিসার্চ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর জেরার্ড সানাকোরা বলেন, "রোগীরা যখন গুরুতর ডিপ্রেসনে আক্রান্ত হবেন, তাঁদের সাহায্য করবে নতুন ন্যাজাল স্প্রে।"
অতিমহামারীর আগেও আমেরিকায় বহু সংখ্যক আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষ ছিলেন। ১৯৯৯ থেকে ২০১৬-র মধ্যে আমেরিকায় আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষের সংখ্যা বেড়েছিল ৩০ শতাংশ। করোনা অতিমহামারীর শুরুর দিকে যে লকডাউন জারি হয়েছিল, তখন অনেকের হাতে ওই অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট স্প্রে পৌঁছে দেওয়া যায়নি।
লকডাউনের সময় মনোবিদদের ধারণা হয়েছিল, বাড়িতে আটকে থাকা অবস্থায় অনেকের বিষণ্ণতা বৃদ্ধি পাবে। হয়তো কারও কারও নতুন কোনও মানসিক সমস্যা দেখা যাবে। এই পরিস্থিতিতে স্প্র্যাভাটো ন্যাজাল স্প্রে অনেককে বিষণ্ণতা কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে বলে ক্র্যামারের দাবি।
রাসায়নিক উপাদানের দিক থেকে স্প্র্যাভাটোর সঙ্গে মিল আছে অয়ানাসথেটিক কেটামাইনের। অন্যান্য অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট ড্রাগ মস্তিষ্কের সেরোটিনিন বা নোরিপাইনফেরিনের ওপরে কাজ করে। কিন্তু স্প্র্যাভাটো কাজ করে ব্রেনের গ্লুটামেট সিস্টেমের ওপরে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৯৮৭ সালের পরে এই প্রথমবার ডিপ্রেসান প্রতিরোধে এত বড় সাফল্য পাওয়া গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই ওষুধ বয়স্কদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ব্যাপক কমিয়ে আনবে। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, খুব কম ক্ষেত্রেই বয়স্করা ওই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।