
শেষ আপডেট: 14 December 2023 10:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ তো দিনেদুপুরে পুকুর চুরি!
এতদিন শোনা যাচ্ছিল টাকা দিয়ে চাকরি কেনা হচ্ছে, কিন্তু এবার খবর এল চাকরি লুট হচ্ছে। মানে সোজা কথায় ‘চাকরি চুরি’।
কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি করার জন্য বাংলা থেকেও কোটা আছে। তার জন্য নিজেকে বাংলার বাসিন্দা প্রমাণ করতে হবে। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখাতে হবে। পুলিশ জানাচ্ছে, এইসব সার্টিফিকেটের জাল করে নিজেকে বাংলার বাসিন্দা দেখিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি পেয়ে যাচ্ছে ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা। এমনকী ব্যারাকপুর সেনা ছাউনিতে পাকিস্তানের দুই নাগরিকের চাকরি করার বিষয়টা নিয়ে যে হইহল্লা হয়েছিল তারও যোগসূত্র এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
কী ঘটেছে?
জাল জাতিগত শংসাপত্র এবং ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জোগাড় করে বাংলার জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় চাকরি চুরি করছে বহিরাগতরা, অভিযোগ এমনই। প্রায় সাড়ে তিন হাজার সরকারি পদ লুট হয়েছে বলেই জানা গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ভুয়ো চক্র এই চাকরি চুরির ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। এই চক্রের খাসতালুক ব্যারাকপুর মহকুমা।
এসএসসি জেনারেল ডিউটির পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কনস্টেবল বা রাইফেলম্যানের চাকরি পাওয়া যায়। এইসব চাকরির জন্য বাংলা থেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পদ সংরক্ষতি ছিল। ওই পদে কোটায় চাকরি পেতে হলে এ রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তাছাড়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও দেখাতে হবে। অভিযোগ, বিভিন্ন থানা ও ডিআইবি অফিসের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়ো সার্টিফিকেট ও নথিপত্র তৈরি করে বাংলার কোটায় চাকরি চুরি করে নিচ্ছে ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা। সরকারি কর্মচারীরাও এই অসাধু চক্রে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। দেখা গেছে, ২০২২ সালের চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাংলার বাসিন্দা নন এমন প্রায় ৩৫০০ প্রার্থীর চাকরি হয়েছে শুধুমাত্র ভুয়ো নথি দেখিয়ে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান থেকে লোক এসে কাজ করছেন। নাগরিকত্ব এড়িয়ে তাঁদের নিয়োগও হচ্ছে। সেনায় নিয়োগে দুর্নীতি চক্রের অভিযোগ তুলে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত বিষয়টি গুরুত্ব দেখে তদন্তভার দেয় সেনা ও সিবিআইকে। তখনই তখনই এসডিও, থানা এবং সরকারি অফিসের মাধ্য জাল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট তৈরির বিষয়টা সামনে আসে। তদন্তকারীরা জানান, পাকিস্তানের দুজন নাগরিক এসে ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি করছে। সরকারি পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের নিয়োগও হয়েছে। ওই পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জাল করে চাকরি পেয়েছেন তাঁরা। এসএসসি জিডি-র পরীক্ষায় বসতে গেলে বাসস্থানের প্রমাণ, জাতির শংসাপত্র, ক্যারেকটার সার্টিফিকেটের মতো একাধিক নথি প্রয়োজন হয়। ওই নথি জাল করে বাইরের লোককে পরীক্ষায় বসার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় তাই জেলাশাসকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এমনকী জাতিগত সার্টিফিকেটও জাল হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখতে বলা হচ্ছে।