জেএনইউতে পরীক্ষা হবে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেলে! কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে পারদ চড়ছে ক্ষোভের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এবার নয়া পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ফের ক্ষোভ দানা বাঁধল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। হোস্টেলের ফি বৃদ্ধির প্রতি
শেষ আপডেট: 16 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এবার নয়া পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ফের ক্ষোভ দানা বাঁধল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। হোস্টেলের ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে জোরদার আন্দোলন চলছে জেএনইউতে। ছাত্র বিক্ষোভের আঁচ এতটাই বেড়েছে যে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে পঠনপাঠন। সেমেস্টার বয়কট করার ডাক দিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন পরীক্ষা নেওয়া হবে হোয়াটসঅ্যাপে অথবা ইমেলে। নয়া নির্দেশিকা জারির পরেই নতুন করে ক্ষোভের পারদ চড়েছে জেএনইউতে।
স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিন অশ্বিনী কে মহাপাত্র বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ার যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য আপাতত এইভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে।” সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্পেশাল সেন্টারগুলির চেয়ারপার্সন ও সহ-উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পরে এই নয়া নির্দেশিকা ঘোষণা করেন অশ্বিনী কে মহাপাত্র।
কীভাবে হবে পরীক্ষা? মহাপাত্র জানিয়েছেন, এমফিল, পিএইচডি এবং এমএ-র ফাইনাল সেমেন্টারে যাঁরা দেবেন তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হবে হোয়াটসঅ্যাপে অথবা ইমেলে। প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন তাঁদের অধ্যাপক, অধ্যাপিকারা। ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে সেই উত্তরপত্র পাঠাতে হবে শিক্ষকদের কাছে। উত্তর পাঠানো যাবে ইমেলে, অথবা উত্তরপত্রের ছবি তুলে স্ক্যান করে পাঠানো যাবে হোয়াটসঅ্যাপে। তাছাড়াও পড়ুয়ারা ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষকদের কাছেও উত্তরপত্র পাঠাতে পারেন।

এমনভাবে নেওয়া পরীক্ষায় স্বচ্ছতা কতটা থাকবে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডিন মহাপাত্র বলেন, “আমরা এখন টুকলি বা পরীক্ষার মানের ব্যাপারে ভাবছি না। ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ারটাই আগে। পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেলে অনেক পড়ুয়াকেই সমস্যায় পড়তে হবে। আগে পরীক্ষা হোক, পরে অন্য কিছু ভাবনাচিন্তা করা যাবে।”
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার কথা বলেছেন জেএনইউ শিক্ষক সংগঠন (জেএনইউটিএ) ও ছাত্র সংগঠনের (জেএনইউএসইউ) সদস্যরা। তাঁদের দাবি, পরীক্ষা নেওয়ার এই পদ্ধতি 'অবাস্তব' ও 'হাস্যকর'। এই সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে অন্য রণকৌশল স্থির করা হবে।
ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চলছে জেএনইউতে। ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, প্রান্তিক অংশের ছাত্রছাত্রীরা যাতে পড়তে না পারে, সে কারণেই ৪০ শতাংশ ফি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারই প্রতিবাদে এই আন্দোলন। ছাত্র জমায়েত হঠাতে ক্যাম্পাসে পুলিশও ঢোকে। তাতে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়ে ৬ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীকে।
গত কয়েক বছরে বারবার ছাত্রআন্দোলনের কারণে শিরোনামে এসেছে জেএনইউ। কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদ, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলাও রুজু হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলন থেমে থাকেনি।