দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দিল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন (জেএনইউটিএ)। পদাধিকারবলে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক (ভিজিটর) হলেন রাষ্ট্রপতি।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একদল লোক ঢুকে যে ভাবে ছাত্রছাত্রীদের এবং একজন শিক্ষককে মারধর করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে তার জন্য উপাচার্যকেই দায়ী করেছে জেএনইউটিএ। তাঁরা মনে করেন, প্রশাসনের মদত ছাড়া কোনও ভাবেই কারও পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকা সম্ভব নয়।
জেএনইউটিএ বলেছে, বিশ্ববিদ্যালে যে উন্নত্ত ভাবে হামলা করা হয়েছে সে ব্যাপারে খুব সচেতন ভাবেই তাঁরা উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করছেন। তাঁরা বলেছেন, এটা একেবারেই বাস্তব কথা যে প্রশাসনের মদত ছাড়া অতজন বহিরাগত গুণ্ডার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা সম্ভব নয় এবং তাণ্ডব চালানোর পরে ধরা না পড়ে চলেও যাওয়া সম্ভব নয়।
ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছিল জেএনইউয়ে। একাধিকবার উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের দিন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ পোখরিয়ালকে ছ’ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছিল। গতকালের ঘটনায় ফের উত্তপ্ত ক্যাম্পাস।
কাল রাতে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়। মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রায় ৫০ জনের একটি দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তাদের হাতে ছিল ব্যাট, লাঠি। আন্দোলনকারীদের সভা চলাকালীন ওই দুষ্কৃতী দল ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালায়। পড়ুয়াদের মারধরের পাশাপাশি হস্টেলের ভিতরে ঢুকেও ভাঙচুর চালানো হয়। আহত হন ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ-সহ অনেকে।

অনুমান করা হচ্ছে, ধারালো কোনও কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে ঐশীর মাথায়। গুরুতর জখম অবস্থায় এইমসের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। একটি ভিডিওয় ঐশী জানান, “মুখোশ পরা গুন্ডারা আমার উপর নৃশংস ভাবে আক্রমণ করেছে। প্রচণ্ড মেরেছে আমায়। রক্ত পড়ছে।” এখন অবশ্য অনেকটাই ভালো আছেন আছেন ঐশী।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) হামলার প্রতিবাদে দেশ জুড়ে গর্জে উঠল ছাত্ররা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালায় থেকে আইআইটি মুম্বই – সারা দেশের ছাত্রছাত্রীরা রবিবারের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
রবিবার মাঝরাত থেকেই মুম্বইয়ের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা জমায়েত হন ইন্ডিয়া গেটে। সেখানে গিয়ে তাঁরা ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের উপরে হামলার প্রতিবাদ করেন, স্লোগান দিতে থাকেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যাতে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ করে, সেই দাবিও তাঁরা করতে থাকেন। তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বিরুদ্ধে।
তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। রাতেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জেএনইউ ক্যাম্পাসে।