
শেষ আপডেট: 24 February 2019 20:08
সম্প্রতি সেই জেলেই তার সাক্ষাৎকার নেয় ব্রিটেনের একটি সংবাদ সংস্থা। তাদের কাছেই মনের কথা উজাড় করে বলেছে আদতে অক্সফোর্ড শহরের এই বাসিন্দা। জ্যাক ওই সাক্ষাৎকারে বলেছে, “কাছের লোক, আত্মীয়স্বজনকে মিস করি। সব চেয়ে বেশি মনে পড়ে মাকে। পাঁচ বছর হয়ে গেল মাকে দেখিনি। দু’বছর আগে শেষ বার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। মায়ের সঙ্গে বসে দেখা রান্নার শো-গুলোও মিস করি আমি। ... আমি ব্রিটিশ। ব্রিটেন আমার দেশ। সরকার অনুমতি দিলে সোজা দেশে ফিরব। তবে সেটা সম্ভব হবে কি না, জানি না।”
জ্যাকের বাবা কানাডার মানুষ হওয়ায়, জ্যাকের দ্বৈত নাগরিকত্বও রয়েছে। অবশ্য কানাডার পাসপোর্টটির মেয়াদ এখনও রয়েছে কি না, জ্যাকের তা জানা নেই।
[caption id="attachment_82543" align="aligncenter" width="700"]
জ্যাকের বাবা-মা।[/caption]
অন্য দিকে, জ্যাক জঙ্গি হিসেবে ধরা পড়ার পরে, ছেলেকে টাকা পাঠানোর অভিযোগে ব্রিটেনে মামলা চলেছে জ্যাকের বাবা জন লেটস এবং মা সারা লেটসের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছেলেকে টাকা পাঠিয়ে আদতে তাঁরা সন্ত্রাসে মদত জুগিয়েছেন। তাঁরা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের পালটা দাবি, তাঁদের ছেলে সিরিয়ায় গিয়েছিল শরণার্থীদের সাহায্য করতে।
ছেলের বয়ান কিন্তু মোটেই তা বলছে না। জেলে দু’বছর ধরে বন্দি থেকে জেহাদি জ্যাক বলেছে, “২০১৫-র প্যারিস হামলার খবর শুনে খুব আনন্দ হয়েছিল। সিরিয়ায় নিজের চোখে দেখেছি, পাঁচ মিনিট অন্তর মার্কিন জোটের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আমাদের উপর বোমা ফেলত। রাক্কায় চোখের সামনে শিশুদের জীবন্ত দগ্ধ হতে দেখেছি। মনে হত, আমাদের সঙ্গে যা হচ্ছে, ওদের ক্ষেত্রেই বা হবে না কেন? পরে অনুতাপ হয়েছিল। নিরীহ মানুষগুলির তো কোনও দোষ ছিল না। ওদের জন্যও সহানুভূতি তৈরি হয়।” রাক্কায় থাকার সময়ে এক ইরাকি মহিলাকে বিয়ে করেছিল জ্যাক। তাদের একটি পুত্র সন্তানও হয়।
জেহাদি জ্যাকের এই সাক্ষাৎকার নিয়ে অবশ্য এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই ঠিক এই ভাবেই দেশে ফিরতে চেয়ে আবেদন করেছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী, শামিমা বেগম। ১৫ বছর বয়সে এই স্কুলছাত্রী লন্ডন থেকে পালিয়ে সিরিয়া গিয়েছিল। বর্তমানে ১৯ বছর বয়েস তার। সিরিয়ার এক আশ্রয় শিবিরে কয়েক মাসের সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছে সে। কিন্তু গত সপ্তাহে তার নাগরিকত্ব খারিজ করে দিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। যার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছে শামিমার পরিবার।
কিন্তু স্বরাষ্ট্র দফতর বলছে, ব্রিটেনের মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখাই আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য। দেশকে রক্ষা করতে কয়েক জনের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব খারিজ করা সেই কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। সমস্ত নথি-সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যক্তিবিশেষে তার তারতম্য করা হবে না।
শামিমার সময়ে প্রকাশ্যে আসা এই সূত্র মেনেই অনেকে মনে করছেন, যতই মন খারাপ করুক না কেন, জেহাদি জ্যাকের দেশে ফেরা কার্যত অসম্ভব।