শনিবার ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁকে বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হবে।
.jpeg.webp)
জীবনকৃষ্ণ সাহা
শেষ আপডেট: 1 September 2025 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলবন্দি অবস্থাতেই রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় নাম বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jiban Krishna Saha Arrest)। অথচ সেই তালিকায় জায়গা হয়নি স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক (BJP MLA) গৌরীশঙ্কর ঘোষের।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের ওয়াসেফ মঞ্জিলে এস্টেট দফতরের আয়োজিত ‘বেড়া উৎসব’-এর উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন আইন ও বিচার দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মলয় ঘটক (Malay Ghatak)। সেই অনুষ্ঠানে জেলার একাধিক সাংসদ, বিধায়ক, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদের সভাধিপতির উপস্থিতি নিশ্চিত হলেও বাদ পড়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। অথচ জেলে থেকেও অতিথি তালিকায় জ্বলজ্বল করছে জীবনকৃষ্ণ সাহার নাম।
এদিকে, জীবনকৃষ্ণের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীদের অভিযানের সময় বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। প্রায় ১০০ মিটার দৌড়নোর পর ধরা পড়েন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জীবন বলেন, “আমি বিধায়ক। পালাব কেন? হঠাৎ সকাল সাড়ে সাতটায় ইডি এলে কী করব!”
ইডি অভিযোগ করেছে, জীবন ও তাঁর স্ত্রী টগরি সাহার যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিক ধাপে ৪৬ লক্ষ টাকারও বেশি জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকাই জমা হয়েছে টগরির অ্যাকাউন্টে, তাও মাত্র চার মাসে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে। তবে জীবনকৃষ্ণের বক্তব্য, “স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে যে টাকা আছে, সেটা সাত বছরের। ভিডিও ভুয়ো। অনেক কিছু বানানো হবে। আমরা তো বিধায়ক।”
শনিবার ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁকে বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হবে।
আদালত চত্বরে জীবন ফের দাবি করেন, তিনি ও তাঁর পরিবার ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত। তাঁর কথায়, “আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। আমাদের টার্নওভার দু’কোটি টাকা। আমি ছোট থেকেই রেশন বিলি, চালকল, কোল্ড স্টোরেজের ব্যবসায় জড়িত। আমরা বনেদি বংশের।”
তবে এই প্রসঙ্গে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে জীবনের বাবা বিশ্বনাথ সাহার গলায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিবিআই মামলায় ছেলের জামিনই পাওয়া উচিত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, জীবনের বিপুল সম্পত্তির সবটাই দুর্নীতির পথে অর্জিত। পরিবারের সঙ্গে সেই সম্পত্তির কোনও যোগ নেই। এমনকি ছেলেকে “বংশের কলঙ্ক” বলতেও দ্বিধা করেননি বিশ্বনাথ।
তাঁর দাবি, “সাধারণ ঘরের ছেলে ছিল জীবন। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করত। কিন্তু ক্ষমতা হাতে আসতেই বদলে গেল সব। দুর্নীতি, জমি দখল, দাপট— এসবেই ডুবে গেল ও। এমনকি পারিবারিক সম্পত্তিও কব্জা করতে ছাড়েনি।”